Logo

‘গুলি করি, মরে একটা, একটাই যায় স্যার’ বলা সেই ডিসি বরখাস্ত

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১২ আগস্ট, ২০২৬, ১৮:৩৮
‘গুলি করি, মরে একটা, একটাই যায় স্যার’ বলা সেই ডিসি বরখাস্ত
ছবি: সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গুলি চালানোসংক্রান্ত বক্তব্যের কারণে আলোচনায় আসা পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার। কর্মস্থলে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (১২ আগস্ট) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সই করা প্রজ্ঞাপনে ইকবাল হোসাইনের বরখাস্তের বিষয়টি জানানো হয়।

ইকবাল হোসাইন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা। পরে তাকে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছিল।

যে বক্তব্যে আলোচনায় এসেছিলেন ইকবাল

বিজ্ঞাপন

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে ইকবাল হোসাইনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় ৪৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানো নিয়ে তাকে কথা বলতে শোনা যায়।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ভিডিওতে ইকবাল হোসাইন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেন, ‘গুলি করে করে লাশ নামানো লাগছে স্যার। গুলি করি, মরে একটা, আহত হয় একটা। একটাই যায় স্যার, বাকিডি যায় না। এইটা হলো স্যার সবচেয়ে বড় আতঙ্কের এবং দুশ্চিন্তার বিষয়।’

তার বক্তব্যের একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা নিয়ে তীব্র আলোচনা তৈরি হয়।

ভিডিওতে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ঘিরে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন এবং সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলমকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এ সময় ইকবাল হোসাইন মুঠোফোনে একটি ভিডিও দেখিয়ে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলছিলেন।

বিজ্ঞাপন

কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার পরই অনুপস্থিত

বরখাস্তের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখার আদেশে ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট ইকবাল হোসাইনকে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে পুলিশ সুপার হিসেবে সংযুক্ত করা হয়।

এরপর ২৮ আগস্ট বিকেলে তিনি ওই কার্যালয়ে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন বলে সরকারি নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তাকে কর্মস্থলে যোগদানের জন্য তার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা এবং ই-মেইল ঠিকানায় একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি আর দায়িত্ব পালন করতে ফিরে আসেননি বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।

অনুপস্থিতিকে ‘পলায়ন’ হিসেবে গণ্য

সরকারি আদেশ অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার ঘটনাকে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে চরম অবহেলা এবং সরকারি আইনানুগ আদেশ অমান্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে ‘পলায়ন’ হিসেবে গণ্য করা হয়। এ অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা শুরু করা হয় এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইকবাল হোসাইন কোনো লিখিত জবাব দেননি। এমনকি জবাব দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত সময় চেয়েও আবেদন করেননি।

তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত

বিজ্ঞাপন

বিভাগীয় মামলার পর অভিযোগ তদন্তে একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তদন্ত শেষে দেওয়া প্রতিবেদনে ইকবাল হোসাইনের বিরুদ্ধে ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে মতামত দেওয়া হয়।

তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনার পর তাকে চাকরি থেকে কেন বরখাস্ত করা হবে না—এ বিষয়ে দ্বিতীয়বার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। কিন্তু দ্বিতীয় নোটিশেরও কোনো জবাব দেননি তিনি।

পিএসসির সম্মতিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

বিজ্ঞাপন

পরবর্তী পর্যায়ে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। যেহেতু এটি গুরুদণ্ডের আওতাভুক্ত, তাই বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরামর্শ চাওয়া হয়।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

পিএসসিও ইকবাল হোসাইনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত পোষণ করে।

এরপর সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার বিধান অনুযায়ী নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে রাষ্ট্রপতি তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।

২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট থেকে বরখাস্ত

বিজ্ঞাপন

রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বরখাস্তের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইনকে ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট থেকে চাকরি থেকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

অর্থাৎ, যে দিন তিনি খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন, সেই দিন থেকেই বরখাস্তের আদেশ কার্যকর ধরা হয়েছে।

সরকারি নথিতে তার বরখাস্তের মূল কারণ হিসেবে কর্মস্থলে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকা ও সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD