Logo

জনগণের হামলার ভয়ে পুলিশের সহায়তা চাইলো পল্লী বিদ্যুৎ

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১২ আগস্ট, ২০২৬, ১৯:৩৫
জনগণের হামলার ভয়ে পুলিশের সহায়তা চাইলো পল্লী বিদ্যুৎ
ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানি সংকট ও তীব্র তাপদাহের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সারাদেশে লোডশেডিং বেড়েছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় জনঅসন্তোষ বাড়ছে। কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র ও অফিসে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ এসোসিয়েশন (বাপবিএ)।

বিজ্ঞাপন

এ পরিস্থিতিতে দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন গ্রিড, উপকেন্দ্র ও কার্যালয়ের নিরাপত্তা জোরদারের জন্য পুলিশের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

বুধবার (১২ আগস্ট) পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে এ বিষয়ে একটি চিঠি দিয়েছে বাপবিএ। সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পল্লী বিদ্যুৎ স্থাপনায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

উৎপাদন কম, বাড়ছে লোডশেডিং

বিজ্ঞাপন

চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশে বর্তমানে জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি তীব্র তাপদাহ চলছে। এর ফলে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়লেও সেই অনুপাতে উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

উৎপাদন কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন গ্রামাঞ্চলে।

বাপবিএর তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েকদিনে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর গড় বিদ্যুৎ চাহিদা প্রায় ৮ থেকে ৯ হাজার মেগাওয়াট। বিপরীতে তারা গড়ে ৫ থেকে ৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বরাদ্দ পাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

চাহিদা ও সরবরাহের এই বড় ব্যবধানের কারণে কোনো কোনো এলাকায় প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

দেশের ৮০ শতাংশ গ্রাহক পল্লী বিদ্যুতের আওতায়

বাপবিএ জানিয়েছে, দেশে মোট বিদ্যুৎ গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ৫ কোটি ২০ লাখ। এর মধ্যে প্রায় ৪ কোটি গ্রাহককে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো।

বিজ্ঞাপন

অর্থাৎ দেশের মোট বিদ্যুৎ গ্রাহকের প্রায় ৮০ শতাংশ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাভুক্ত।

তবে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো নিজেরা বিদ্যুৎ উৎপাদন করে না। জাতীয় গ্রিড থেকে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ বরাদ্দ দেওয়া হয়, সেই বিদ্যুৎই সংশ্লিষ্ট এলাকার গ্রাহকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।

ফলে উৎপাদন ও জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর পক্ষেও ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হয় না বলে সংগঠনটির বক্তব্য।

বিজ্ঞাপন

লোডশেডিং ঘিরে বাড়ছে জনরোষ

দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। বাপবিএর অভিযোগ, এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে কোথাও কোথাও পল্লী বিদ্যুতের উপকেন্দ্র ও অফিসে হামলা এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটছে।

এতে এসব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তারা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সংগঠনটির আশঙ্কা, পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ অবকাঠামো হামলার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

গ্রিড ও উপকেন্দ্রে নিরাপত্তা চাওয়া

বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের প্রতিটি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন গ্রিড, উপকেন্দ্র এবং অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের জন্য স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ করেছে বাপবিএ।

বিজ্ঞাপন

আইজিপির কাছে পাঠানো চিঠির অনুলিপি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের একান্ত সচিব, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব, সব জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকেও দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছেও চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।

‘কেপিআই স্থাপনায় হামলা হলে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি’

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ এসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী মনির হোসেন বলেন, সারাদেশে লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তাজনিত কারণে পুলিশকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

তার মতে, বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে হামলা হলে তাৎক্ষণিক ক্ষতির পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

তিনি জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর পক্ষ থেকেও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে বর্তমান বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কারণ বোঝানোর পাশাপাশি উত্তেজনা এড়াতে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা তৈরির চেষ্টা চলছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে একদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ঘাটতির কারণে লোডশেডিং বাড়ছে, অন্যদিকে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় জনঅসন্তোষ তৈরি হচ্ছে। ফলে বিদ্যুৎ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দ্রুত সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি করাই এখন সংশ্লিষ্টদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD