মার্কিন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার বৈঠক

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদার করার লক্ষ্যে দুই দেশের ব্যবসায়িক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অতুল কেশবের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে।
বিজ্ঞাপন
সাক্ষাতে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, পারস্পরিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়।
বৈঠকের শুরুতে মার্কিন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং বহুমাত্রিক। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের জন্য বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা ও সম্ভাবনাময় খাতগুলোর বিষয়েও প্রতিনিধিদলকে অবহিত করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
হুমায়ুন কবির বলেন, বিনিয়োগকারীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশ বর্তমানে অর্থনৈতিক রূপান্তর ও নতুন সম্ভাবনা তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্ব বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব বাংলাদেশের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি প্রযুক্তি ও জ্ঞান বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে মার্কিন ব্যবসায়ীদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি সরকারের ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেন।
সাক্ষাতে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অতুল কেশব বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
তিনি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি খাতের মধ্যে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ককে আরও উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের আগ্রহের কথাও জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
বৈঠকে শুধু সাধারণ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নয়, নির্দিষ্ট কয়েকটি সম্ভাবনাময় খাত নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, শিল্প খাতে সহযোগিতা, অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি খাত, প্রযুক্তি ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসা, ডিজিটাল অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ খাত।
এসব খাতে মার্কিন বিনিয়োগের সুযোগ এবং দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে সম্ভাব্য অংশীদারত্ব নিয়ে প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময় করেন সংশ্লিষ্টরা।
বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের মধ্যে যোগাযোগ আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে। বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ও অংশীদারত্ব জোরদারের মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গতিশীল করা সম্ভব বলে মত দেওয়া হয়।
বিজ্ঞাপন
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের নতুন ক্ষেত্র তৈরি এবং ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের অর্থনৈতিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করার সুযোগ রয়েছে।








