Logo

অস্থায়ী অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার কড়া নির্দেশ

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৮ জুন, ২০২৬, ২২:১৩
অস্থায়ী অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার কড়া নির্দেশ
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদা (টিপিএস) নিয়ে অবস্থানরত অভিবাসীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কওয়েন মুলিন বলেছেন, টিপিএস সুবিধাভোগীদের হয় স্থায়ীভাবে বৈধভাবে বসবাসের আইনি পথ খুঁজতে হবে, নয়তো নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (২৮ জুন) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

মুলিনের এই বক্তব্য আসে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক এক রায়ের পর। গত সপ্তাহে আদালত বিভক্ত রায়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে টিপিএসের আওতায় থাকা বিপুলসংখ্যক হাইতিয়ান ও সিরীয় নাগরিকের অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদা বাতিলের অনুমতি দেয়।

বিজ্ঞাপন

এতদিন টিপিএস কর্মসূচির আওতায় যুদ্ধ, সংঘাত, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা চরম মানবিক সংকটে থাকা দেশগুলোর নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রে সাময়িকভাবে বৈধভাবে অবস্থানের সুযোগ পেতেন। এর ফলে তারা নিজ দেশে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত ছিলেন।

সাক্ষাৎকারে মার্কওয়েন মুলিন বলেন, যাদের টিপিএস সুবিধা রয়েছে তারা চাইলে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের চেষ্টা করতে পারেন। অন্যথায় সরকার তাদের স্বদেশে ফিরে যেতে সহায়তা করবে।

তিনি আরও জানান, স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে যেতে আগ্রহীদের জন্য সরকার বিমান ভাড়ার পাশাপাশি নতুন করে জীবন শুরু করতে প্রায় ২ হাজার ১০০ মার্কিন ডলার আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ‘টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস’ নাম থেকেই বোঝা যায় এটি কখনোই স্থায়ী অভিবাসন সুবিধা নয়।

বিজ্ঞাপন

মার্কিন আইন অনুযায়ী, যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্যান্য গুরুতর সংকটের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের নাগরিকদের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এই মানবিক সুরক্ষা দেওয়া হয়। অতীতে বহুবার এই সুবিধার মেয়াদ বাড়ানো হলেও বর্তমান প্রশাসন তা বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এখনো হাইতি ও সিরিয়ায় ব্যাপক সহিংসতা, সন্ত্রাসবাদ, অপহরণ এবং অপরাধের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে মার্কিন নাগরিকদের ওই দেশগুলোতে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়ে আসছে।

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, ২০১০ সালের বিধ্বংসী ভূমিকম্পের পর প্রথম হাইতির নাগরিকদের জন্য এবং ২০১২ সালে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হলে দেশটির নাগরিকদের জন্য টিপিএস সুবিধা চালু করা হয়েছিল।

২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় ওহাইওতে বসবাসরত হাইতিয়ান অভিবাসীদের বিরুদ্ধে প্রতিবেশীদের পোষা প্রাণী খাওয়ার অভিযোগ করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, যা পরবর্তীতে ভিত্তিহীন বলে প্রমাণিত হয়। তবে সুপ্রিম কোর্টের রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা সাম্প্রতিক রায়ে মন্তব্য করেন, প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত জাতিগত বৈষম্যমূলক ছিল—এমন অভিযোগ আদালতে প্রমাণ হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD