Logo

সেই জুলাইতেই উত্তাল ভারত, আন্দোলনে অচল দিল্লি

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২০ জুলাই, ২০২৬, ১৭:০৯
সেই জুলাইতেই উত্তাল ভারত, আন্দোলনে অচল দিল্লি
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণআন্দোলনের দুই বছর পর একই মাসে এবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে শিক্ষার্থী ও তরুণদের বিক্ষোভে। সরকারি চাকরি ও মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ডাকা ‘লং মার্চ টু পার্লামেন্ট’ কর্মসূচিকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক উত্তেজনা।

বিজ্ঞাপন

গত প্রায় এক মাস ধরে দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন সিজেপির কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। পার্লামেন্টের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর দিনকে সামনে রেখে রোববার ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। সোমবার (২০ জুলাই) সকাল থেকেই হাজারো শিক্ষার্থী ও তরুণ যন্তর মন্তরে জড়ো হয়ে পদযাত্রায় অংশ নেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। সংসদ ভবনের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় আন্দোলনকারীরা কয়েকটি ব্যারিকেড অতিক্রমের চেষ্টা করলে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন আন্দোলনকারী ও পুলিশ সদস্য আহত হন। এক তরুণকে রক্তাক্ত অবস্থায়ও দেখা যায়।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সংঘর্ষের পর মধ্য দিল্লির কয়েকটি এলাকায় সাময়িকভাবে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞাপন

উত্তেজনার মধ্যেই সিজেপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থকদের উদ্দেশে শান্ত থাকার আহ্বান জানায়। দলটির বার্তায় বলা হয়, যেখানেই বাধার মুখে পড়তে হোক না কেন, অহিংস অবস্থান বজায় রাখতে হবে এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমেই লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

এদিকে সিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাদের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে যন্তর মন্তর এলাকা থেকে পুলিশ আটক করেছে।

গত মে মাসে অভিজিৎ দীপকের উদ্যোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষা জালিয়াতির বিরুদ্ধে ব্যঙ্গাত্মক প্রচারণা হিসেবে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র যাত্রা শুরু হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই এটি শিক্ষার্থী ও তরুণদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং পরে রাজপথের আন্দোলনে রূপ নেয়।

বিজ্ঞাপন

সোমবার ভোর থেকেই যন্তর মন্তরে উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যেও চলতে থাকে সরকারবিরোধী স্লোগান ও শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে বক্তব্য। অনেক আন্দোলনকারীর হাতে ছিল ভারতের জাতীয় পতাকা, আবার কেউ শান্তির প্রতীক হিসেবে বহন করছিলেন প্লাস্টিকের গোলাপ।

পদযাত্রার আগে রোববার রাত থেকেই যন্তর মন্তর এলাকায় অস্থায়ী ক্যাম্প গড়ে তোলেন বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা শিক্ষার্থীরা। অনেকে ত্রিপলের নিচে রাত কাটান, কেউ প্ল্যাকার্ড তৈরি করেন, আবার কেউ গান ও আড্ডায় সময় পার করেন। সকাল হলে স্বেচ্ছাসেবকেরা অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে চা-নাশতা বিতরণ করেন এবং নতুন আগতদের অবস্থানের ব্যবস্থা করে দেন।

এই কর্মসূচিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রস্তুতি দেখা যায়। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম গ্রুপের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা নির্দেশনা, জরুরি যোগাযোগ নম্বর, আইনি সহায়তার তথ্য এবং করণীয় জানানো হয়।

বিজ্ঞাপন

আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পানির বোতল, ওআরএস, শুকনো খাবার, পাওয়ার ব্যাংক, রেইনকোট ও প্রয়োজনীয় ওষুধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পুলিশের সঙ্গে কোনো ধরনের সংঘর্ষে না জড়ানো এবং শুধু জাতীয় পতাকা বহনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

রাজপথে আন্দোলনের পাশাপাশি ভারতের সংসদেও প্রথম দিনের অধিবেশন ছিল উত্তপ্ত। বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে আলোচনার দাবিতে বিরোধী সদস্যদের বিক্ষোভ ও স্লোগানের কারণে লোকসভার অধিবেশন দুপুর পর্যন্ত স্থগিত করা হয়।

অধিবেশন শুরুর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গণমাধ্যমের সামনে দেশের মহাকাশ, শিল্প ও অবকাঠামো খাতের বিভিন্ন অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন এবং সংসদ সদস্যদের গঠনমূলক আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। তবে রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে চলমান শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

বিজ্ঞাপন

সূত্র: বিবিসি, এনডিটিভি ও দ্য হিন্দু

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD