নেপালে আকস্মিক বন্যায় নিহত ৪৬, ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা কল্পনার অতীত

নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী রাসুয়া জেলায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬ জনে দাঁড়িয়েছে। একই ঘটনায় এখনো প্রায় ৫০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা পিটিআই।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে নেপাল ও চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তিব্বতের সীমান্তবর্তী এলাকায় আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। এতে শত শত মানুষ কাদা ও পানির নিচে আটকা পড়েন। নিখোঁজদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১০৫ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের নাগরিকও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
নেপালের ভোতেকোশি নদীর তীরবর্তী জনবসতি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।
বরফধসে বন্ধ নদীর প্রবাহ, এরপর ভূমিকম্প
বিজ্ঞাপন
বন্যার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে নদীর প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং পরবর্তী সময়ে ভূমিকম্পের প্রভাবকে বিবেচনা করা হচ্ছে। কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও জলবায়ু গবেষক রিজান ভক্ত জানিয়েছেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে লেন্দে নদীতে বরফধসের তথ্য পাওয়া গেছে। এতে নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে বিপুল পরিমাণ পানি জমে যায়।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
গবেষকের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল ৯টার দিকে নেপালের দিকে আকস্মিক বন্যার পানি নেমে আসার সময় তিব্বতে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়। ধারণা করা হচ্ছে, ভূমিকম্পের প্রভাবে জমে থাকা বরফ ও পানি সরে গিয়ে একসঙ্গে ভোতেকোশি নদীতে প্রবাহিত হয়। এর ফলেই ভয়াবহ পাহাড়ি ঢলের সৃষ্টি হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
কান্তিপুর টিভিকে রিজান ভক্ত জানান, চীনা বিজ্ঞানীদের কাছ থেকে পাওয়া প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতেই তারা এই সম্ভাবনা বিবেচনা করছেন। তবে বন্যার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে আরও তদন্ত প্রয়োজন।
এদিকে, তিব্বতের কৈলাশ-মানস সরোবর হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম পবিত্র স্থান। বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মাবলম্বীদের কাছেও অঞ্চলটির বিশেষ ধর্মীয় গুরুত্ব রয়েছে।
সূত্র: পিটিআই








