নেপালে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধস, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫৯

নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানি বেড়ে ৩৫৯ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে দুই অঞ্চলে এখনো প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ৮০০ জনের বেশি বিদেশি পর্যটক বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (২৬ আগস্ট) নেপালের মধ্যাঞ্চলীয় বাগমাতি প্রদেশের রাসুয়া ও আশপাশের কয়েকটি জেলায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ শুরু হয়। ভয়াবহ স্রোতে বাড়িঘর, সড়ক ও বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নেপালের পর্যটন কর্মকর্তা ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক বিদেশি পর্যটক রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, অন্তত ৫৪ জন মার্কিন পর্যটকের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। দুর্যোগে প্রাণহানির ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনাও জানিয়েছে দেশটি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
নেপাল পুলিশের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় ৫টা পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫৯ হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে মৃতের সংখ্যা ৩৩২ ঘোষণার প্রায় এক ঘণ্টা পর এই তথ্যটি এসেছে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ জানিয়েছেন, ৩৪ জন অস্ট্রেলীয় নাগরিকও নিখোঁজ রয়েছেন। এ ছাড়া ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ১০৫ জনের নিখোঁজ থাকার খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে কলকাতার ৩২ জন রয়েছেন।
নেপাল পুলিশের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫৯ জনে পৌঁছেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে মৃতের সংখ্যা ৩৩২ ঘোষণার প্রায় এক ঘণ্টা পর এই তথ্যটি এসেছে। উদ্ধারকাজে নেপাল সেনাবাহিনী হেলিকপ্টার ও দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশিক্ষিত সদস্যদের মোতায়েন করেছে।
বিজ্ঞাপন
দুর্যোগের ভয়াবহতা উঠে এসেছে বিভিন্ন ছবি ও ভিডিওতেও। নেপাল পুলিশের প্রকাশ করা ছবিতে নদীর প্রবল স্রোতে বাড়িঘর ভেসে যেতে দেখা গেছে। অন্যদিকে, কাদামাটির নিচে চাপা পড়া একটি বাড়ির কেবল উপরের অংশ দৃশ্যমান থাকার ছবিও প্রকাশ পেয়েছে।
বন্যা ও ভূমিধসে নেপালের বিদ্যুৎ অবকাঠামোও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জলবিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎ মিলিয়ে প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা ক্ষতির মুখে পড়েছে। উৎপাদনের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় পুলিশের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো পাওয়া যায়নি। তবে নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং নিখোঁজদের উদ্ধারে সর্বাত্মক অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। নেপাল-চীন সীমান্তের গিরং সীমান্তপথ দুই দেশের পর্যটক ও যানবাহন চলাচলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পারাপার কেন্দ্র হওয়ায় দুর্যোগের কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থায়ও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।
সূত্র: বিবিসি








