নেপালে গ্রামের পর গ্রাম নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে আকস্মিক বন্যা

নেপালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় গ্রামের পর গ্রাম নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। কোথাও ঘরবাড়ির অস্তিত্ব নেই, কোথাও আবার পুরো এলাকা পরিণত হয়েছে কাদা ও ধ্বংসস্তূপে। উদ্ধার অভিযানের সময় হেলিকপ্টার থেকে ধারণ করা ভিডিওতে উঠে এসেছে ভয়াবহ এই ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র।
বিজ্ঞাপন
চীন ও নেপালের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত লেন্দে নদীর তীর থেকে বিপুল পরিমাণ কাদা ও ধ্বংসাবশেষ নেমে আসার পর এই আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। তীব্র স্রোত ভোটেকোশি ও ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী গ্রাম ও শহরগুলোতে আছড়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই বহু ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পানির তোড়ে ভেসে যায়।
নেপাল ও তিব্বতের হিমালয়-সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় এই দুর্যোগে অন্তত ১৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ১ হাজার ৩৮০ জন। নিখোঁজদের মধ্যে প্রায় ৮০০ জন বিদেশি নাগরিক। নেপালের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ১৭৭ জন ভারতীয় নাগরিক। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল, দক্ষিণ আফ্রিকা ও দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকও রয়েছেন।
নেপালের বন্যার প্রভাব ভারতের কিছু এলাকাতেও পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকার কর্মকর্তারা বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এরই মধ্যে উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের কয়েকটি জেলায় বন্যা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
উদ্ধার অভিযান চলাকালে আকাশ থেকে ধারণ করা ভিডিওতে নেপালের একাধিক গ্রামের ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখা গেছে। হড়পা বানের স্রোতে অনেক গ্রাম এখন কেবল কাদা ও ধ্বংসস্তূপের স্তূপে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা সংস্থার নেপাল শাখার প্রধান ডেভিড ফিশার জানিয়েছেন, বহু গ্রাম ও বাজার এলাকা পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় নেপালি সেনাবাহিনী হেলিকপ্টার ব্যবহার করে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে আকাশপথে অনেক মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। নদীর তীরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদেরও নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বন্যার পানিতে বহুতল ভবন পর্যন্ত তলিয়ে যাওয়ায় উদ্ধারকারীরা কাদা ও পলির স্তর সরিয়ে জীবিতদের খোঁজ করছেন। নেপালি পুলিশের প্রকাশ করা বিভিন্ন ছবি ও ভিডিওতেও নদীর প্রবল স্রোতে ঘরবাড়ি ভেসে যাওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে।
জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণ এশিয়ায় মৌসুমি বৃষ্টিপাতের কারণে প্রায়ই বন্যা ও ভূমিধস দেখা যায়। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ অঞ্চলে চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন ঘটছে এবং এসব দুর্যোগের তীব্রতাও বাড়ছে।
এদিকে কাঠমান্ডুভিত্তিক পর্বত ও জলবায়ু গবেষণা সংস্থার জলবায়ু ও পরিবেশগত ঝুঁকি বিভাগের প্রধান কিয়াংগং ঝাং নেপালে নতুন করে আরেকটি বন্যার আশঙ্কা নিয়ে সতর্ক করেছেন।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে, চীনের তিব্বতের গিরং এলাকাতেও ভূমিধসে হতাহত ও নিখোঁজের খবর পাওয়া গেছে। সেখানে তিনজনের মৃত্যু এবং ২৬৫ জন নিখোঁজ হওয়ার কথা জানানো হয়েছে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।








