Logo

নিখোঁজ হাজারো মানুষ, উদ্ধারের শেষ অপেক্ষায় স্বজনরা

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৩০ আগস্ট, ২০২৬, ১৫:২১
নিখোঁজ হাজারো মানুষ, উদ্ধারের শেষ অপেক্ষায় স্বজনরা
ছবি: সংগৃহীত

নেপাল ও চীনে হিমবাহ ধস, ভূমিধস ও ভয়াবহ বন্যার পর নিখোঁজ হাজারো মানুষকে উদ্ধারে ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। তবে বৈরী আবহাওয়া, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা এবং নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় উদ্ধার অভিযান বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সময় যত গড়াচ্ছে, নিখোঁজদের স্বজনদের উৎকণ্ঠাও তত বাড়ছে।

বিজ্ঞাপন

কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল পর্যন্ত এই দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা ৭৫০ জনে পৌঁছেছে। নেপাল-চীন সীমান্তের উভয় পাশে এখনো ৩ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

গত বুধবার হিমবাহ ধসে বিপুল পরিমাণ বরফ, পাথর, কাদা ও ধ্বংসাবশেষ পাহাড়ি উপত্যকা এবং নদীপথ দিয়ে নিচে নেমে আসে। এতে নেপাল ও চীনের বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

আন্তর্জাতিক রেড ক্রসের হিসাব অনুযায়ী, ভয়াবহ এই দুর্যোগে ৯০ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারেন। চীন জানিয়েছে, এই বিপর্যয়ের সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের সম্পর্ক থাকতে পারে।

বিজ্ঞাপন

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই শনিবার নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। এ সময় তিনি ঘটনাটিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম ভয়াবহ আন্তঃসীমান্ত দুর্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন। উদ্ধার অভিযানকে নজিরবিহীনভাবে জটিল ও কঠিন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৭৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ২ হাজার ৪৯৮ জন এবং ৭ হাজার ৫১৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যদিকে চীনের গিরং কাউন্টিতে ১৬ জনের মৃত্যু এবং ৫৪৬ জন নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিকে তিব্বতে নেপাল সীমান্তের কাছে ২৩টি দেশের ২৬১ জন বিদেশি নাগরিকেরও কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে বেইজিং।

বিজ্ঞাপন

বৈরী আবহাওয়ায় বারবার থমকে যাচ্ছে উদ্ধারকাজ

দুর্যোগের ব্যাপকতা এবং হিমালয়ের দুর্গম ভূপ্রকৃতির কারণে উদ্ধার অভিযান চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

নেপালের স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, নতুন করে বৃষ্টিপাতের কারণে ত্রিশূলী নদীর পানি বেড়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্ধারকর্মীদের অনেকেই নিরাপদে উঁচু এলাকায় সরে গেছেন। এতে নতুন করে বন্যার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার থেকে বৈরী আবহাওয়া এবং নেপাল-চীন সীমান্তে সৃষ্ট একটি হ্রদ নিয়ে উদ্বেগের কারণে কয়েক দফায় উদ্ধার অভিযান বন্ধ রাখতে হয়েছে। হ্রদের পানি উপচে লেন্দে খোলা ও ত্রিশূলী নদীতে প্রবাহিত হওয়ায় আরও বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

শনিবার সন্ধ্যার মধ্যে হ্রদটির বেশিরভাগ পানি নেমে গেলেও ওই রাতেই ড্রোনের মাধ্যমে হ্রদটির প্রায় ২ দশমিক ৮ কিলোমিটার ভাটির দিকে নতুন একটি ভূমিধস শনাক্ত করা হয়।

বিজ্ঞাপন

টানেলে আটকে শত শত মানুষ

নেপালে উদ্ধার অভিযানের বড় একটি অংশ এখন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের টানেলে আটকে থাকা শত শত মানুষকে উদ্ধারে কেন্দ্রীভূত হয়েছে।

নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লোক বাহাদুর ছেত্রী জানিয়েছেন, টানেল থেকে মানুষ উদ্ধারের পাশাপাশি ডিএনএ পরীক্ষা, মরদেহ সংরক্ষণের জন্য হিমায়িত ব্যবস্থা এবং পচন ধরা মরদেহ শনাক্তকরণসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত কাজে আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপন

ভারত ও চীনের বিশেষজ্ঞরা ইতোমধ্যে টানেল খুলে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারে সহায়তা করছেন বলেও জানান তিনি।

শনাক্ত করা যায়নি, এমন মরদেহের গণদাফন

নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে কয়েক দিন ধরে হাসপাতাল, মর্গ ও ত্রাণকেন্দ্রে ঘুরছেন পরিবারের সদস্যরা। এর মধ্যেই শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি—এমন শত শত মরদেহ গণদাফনের উদ্যোগ নিয়েছে নেপালের কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞাপন

চিটওয়ান জেলায় দুর্যোগের সরাসরি প্রভাব না পড়লেও বন্যাকবলিত রাসুয়া অঞ্চল থেকে ভেসে আসা মরদেহ নদীপথে নারায়ণী নদীতে পৌঁছেছে। অনেক মরদেহ পচতে শুরু করায় দ্রুত দাফনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স

জেবি/জেএইচআর/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD