Logo

নেপালে ৯ দিন পর সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত ২ শ্রমিক উদ্ধার

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২০
নেপালে ৯ দিন পর সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত ২ শ্রমিক উদ্ধার
ছবি: সংগৃহীত

নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের নয় দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের সুড়ঙ্গ থেকে দুই শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার ত্রিশূলি-৩এ জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের সুড়ঙ্গ থেকে তাদের উদ্ধার করেন উদ্ধারকারীরা।

বিজ্ঞাপন

উদ্ধার হওয়া দুই শ্রমিক হলেন ৩০ বছর বয়সী মেকানিক্যাল ফোরম্যান সঞ্জয় শাহ এবং ৪৫ বছর বয়সী মেকানিক্যাল সুপারভাইজার কবির মহার্জন। তাদের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং।

উদ্ধারকারীরা জানান, একজন শ্রমিককে কাদায় ঢাকা সুড়ঙ্গের মুখ থেকে বের করে আনা হয়। পরে তাকে দাঁড়াতে সহায়তা করেন উদ্ধারকর্মীরা। অপর শ্রমিককে কমলা রঙের একটি স্ট্রেচারে করে বাইরে আনা হয়। তার শরীরও কাদায় ঢাকা ছিল। উদ্ধারের সময় তাকে হাত জোড় করে প্রার্থনা করতে দেখা যায়।

কবির মহার্জনের ভাই আমির মহার্জন এ ঘটনায় আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, তিনি খুব খুশি এবং তার হৃদয় যেন হালকা হয়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন

গত ২৬ আগস্ট ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর ত্রিশূলি নদীসংলগ্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে শত শত শ্রমিক আটকা পড়েন। তাদের মধ্যে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারতের নাগরিকও রয়েছেন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

জ্বালানিমন্ত্রী বিরাজ ভক্ত শ্রেষ্ঠ প্রথমে ত্রিশূলি-৩এ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে একজন শ্রমিককে জীবিত উদ্ধারের খবর জানান। কিছুক্ষণ পর দ্বিতীয় শ্রমিককেও উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং।

বিজ্ঞাপন

উদ্ধারের আগে সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে মানুষের আওয়াজ শুনতে পেয়েছিলেন উদ্ধারকারীরা। নুয়াকোট জেলার পুলিশপ্রধান বিপিন রেগমি জানান, ভেতর থেকে শব্দ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে একটি চিকিৎসক দল পাঠানো হয়।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর কর্নেল পরিক্ষিত মেহরা বলেন, এ ধরনের উদ্ধার অভিযানে প্রথম ৪৮ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় অন্ধকার সুড়ঙ্গে আটকে থাকলে মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়তে পারেন এবং ৪৮ ঘণ্টার পর বিভ্রমও দেখা দিতে পারে। তবে এই ঘটনায় তিনি এটিকে ‘অলৌকিক ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

অস্ট্রেলিয়ার উদ্ধার বিশেষজ্ঞ আর্নল্ড ডিক্সও সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে ক্ষীণ সাড়া পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। উদ্ধারকারীরা সুড়ঙ্গের ভেতরে চিৎকার করে জানান, তারা আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধার করতে এসেছেন। এর জবাবে ভেতর থেকে নেপালি ভাষায় ‘হুঞ্চা’ অর্থাৎ ‘হ্যাঁ’ বা ‘ঠিক আছে’ ধরনের সাড়া পাওয়া যায় বলে জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

ডিক্স জানান, সুড়ঙ্গের প্রবেশপথে জমে থাকা ধ্বংসাবশেষের প্রায় ৫০ থেকে ৬০ মিটার সরানোর পর উদ্ধারকারীরা দুই শ্রমিকের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হন।

ত্রিশূলি-৩এ জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎকেন্দ্রে যাওয়ার সুড়ঙ্গটি চার কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ। ভয়াবহ বন্যার সময় সেখানে কয়েক ডজন শ্রমিক কাজ করছিলেন।

এর আগে নেপাল সরকার জানিয়েছিল, বিভিন্ন সুড়ঙ্গে ১০০ জনের বেশি শ্রমিক জীবিত অবস্থায় আটকা পড়ে থাকতে পারেন। ত্রিশূলি-৩এসহ অন্যান্য জলবিদ্যুৎ প্রকল্পেও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

২৬ আগস্ট চীন-নেপাল সীমান্তে শিলা ও বরফধসের পর সৃষ্ট বিশাল ঢেউ নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকায় আঘাত হানে। এতে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা ঘটে। উদ্ধারকারী দল এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২৫০ জনের বেশি মানুষের মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং ৫ হাজারের বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD