Logo

নতুন করে ২০ হাজার বাড়ি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেপাল সরকারের

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৬:৪৯
নতুন করে ২০ হাজার বাড়ি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেপাল সরকারের
ছবি: সংগৃহীত

হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ ধসের পর ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত নেপালে প্রায় ২০ হাজার বাড়িঘর নতুন করে নির্মাণ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রধান ধর্মরাজ উপ্রেতি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রাথমিক হিসাবে অন্তত ৭ হাজার ৫০০ বাড়ি পুরোপুরি ধসে গেছে অথবা কাদা ও পলির নিচে চাপা পড়েছে।

গত ২৬ আগস্টের হিমবাহ ধস ও পরবর্তী বন্যায় নেপালে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ২০৪ জনে পৌঁছেছে। এখনো চার হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। চীন সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকার জনপদও পলি ও কাদায় ঢেকে গেছে।

দুর্যোগে শুধু বাড়িঘর ধ্বংসই হয়নি, অনেক অক্ষত ভবনও বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে প্রায় ২০ হাজার পরিবারকে নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। ধর্মরাজ উপ্রেতি জানান, পুরনো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আর বাড়ি নির্মাণ করা হবে না। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য নিরাপদ নতুন এলাকা চিহ্নিত করার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানান, নিখোঁজদের উদ্ধারে তৎপরতার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের পুনর্বাসন ও ধ্বংস হওয়া অবকাঠামো পুনর্নির্মাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে চীন, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞ ও উদ্ধারকারী দল বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গে আটকে পড়া শ্রমিকদের সন্ধানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

বিশেষ করে আপার ত্রিশূলী-১ প্রকল্প এলাকায় দক্ষিণ কোরিয়ার একটি উদ্ধারকারী দল আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিখোঁজ শ্রমিকদের খুঁজছে। দলটি ড্রোন, প্রশিক্ষিত কুকুর, শাব্দিক তরঙ্গ শনাক্তকারী যন্ত্র ও থার্মাল ইমেজিং ক্যামেরার সাহায্যে তল্লাশি চালাচ্ছে। সেখানে নিখোঁজ নয়জন কোরীয় কর্মীসহ অন্যান্য শ্রমিকদের উদ্ধারে চেষ্টা চলছে।

বিজ্ঞাপন

দুর্যোগের পর স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনতে শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম পুনরায় চালুর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র এবং নিরাপদ ভবনে শিশুদের পাঠদান শুরু করার উদ্যোগ নিয়েছেন শিক্ষকরা।

জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, অন্তত ২২ হাজার শিশু জরুরি ভিত্তিতে নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তার ঝুঁকিতে রয়েছে।

ভবিষ্যতে সীমান্তবর্তী এলাকায় এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগাম সতর্কতা নিশ্চিত করতে নতুন ব্যবস্থাও গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেপাল সরকার। ভূমিকম্প পরিমাপক সেন্সর, ক্যামেরা ও স্যাটেলাইট সংযোগ সমন্বিত একটি আন্তর্জাতিক মানের আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সূত্র: রয়টার্স

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD