Logo

রোহিঙ্গাদের জাতিগত পরিচয় ও অস্তিত্ব অস্বীকার করলো মিয়ানমার

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২১:৫০
রোহিঙ্গাদের জাতিগত পরিচয় ও অস্তিত্ব অস্বীকার করলো মিয়ানমার
ছবি: সংগৃহীত

বিদেশে বাস্তুচ্যুত হয়ে থাকা নিজেদের নাগরিকদের ‘নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে’ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মিয়ানমার। তবে একই সঙ্গে দেশটি আবারও রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর স্বতন্ত্র জাতিগত পরিচয় ও অস্তিত্ব অস্বীকার করেছে।

বিজ্ঞাপন

মালয়েশিয়া থেকে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতির মধ্যেই বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে তাদের এ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে।

মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও অন্যান্য বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের সঙ্গে সমন্বয় করে যাচাই করা বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তবে একই বিবৃতিতে রোহিঙ্গাদের বিষয়ে আগের অবস্থানও স্পষ্ট করেছে মিয়ানমার। দেশটির দাবি, ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি এমন একটি জাতিগত পরিচয়কে বোঝায়, যার মিয়ানমারে কখনো অস্তিত্ব ছিল না। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশে পালিত ‘রোহিঙ্গা গণহত্যা স্মরণ দিবস’-এরও নিন্দা জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বিজ্ঞাপন

মালয়েশিয়া ও মিয়ানমারের মধ্যে প্রত্যাবাসন নিয়ে উদ্বেগের মূল কারণ রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন আশঙ্কা করছে, মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হলে রোহিঙ্গারা আবারও নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার হতে পারেন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

গত জুলাইয়ে মালয়েশিয়া জানিয়েছিল, মিয়ানমার ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে দেশে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে দেশটিতে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা, বৈষম্য ও নিপীড়নের অভিযোগ রয়েছে। তবে প্রথম দফায় সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মিয়ানমারের নাগরিককে স্বেচ্ছায় দেশে ফেরানোর কথা জানিয়েছে দুই দেশ। এই দফায় কতজন রোহিঙ্গা থাকবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

বিজ্ঞাপন

২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ব্যাপক দমন-পীড়নের পর লাখ লাখ রোহিঙ্গা দেশটি ছেড়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। ওই সামরিক অভিযানের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার মামলা চলছে।

বর্তমানে বাংলাদেশে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছেন। সীমান্তবর্তী এলাকায় বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী বসতিতে তাদের অবস্থান। দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত তা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি।

এদিকে মালয়েশিয়ায় প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার রোহিঙ্গা বসবাস করছেন। তাদের পাশাপাশি মিয়ানমারের অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর বিপুলসংখ্যক বাস্তুচ্যুত নাগরিকও দেশটিতে অবস্থান করছেন।

বিজ্ঞাপন

রোহিঙ্গাদের জাতিগত পরিচয় অস্বীকার করা মিয়ানমারের দীর্ঘদিনের অবস্থান। দেশটি তাদের স্বতন্ত্র জনগোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। মিয়ানমারের দাবি, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অভিবাসীদের বংশধর। এ কারণে দেশটির কর্তৃপক্ষ সাধারণত ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটিও ব্যবহার করতে চায় না।

বৃহস্পতিবারের বিবৃতিতেও মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একই অবস্থান ধরে রেখে বলেছে, ‘রোহিঙ্গা’ পরিচয় মিয়ানমারে কখনো বিদ্যমান ছিল না—এমন একটি জাতিগত পরিচয়ের মিথ্যা দাবি করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, মালয়েশিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী ফাহমি ফাদজিল বলেছেন, কোনো মিয়ানমারের নাগরিককে এমন পরিস্থিতিতে দেশে ফেরত পাঠানো হবে না, যেখানে তার ওপর নিপীড়নের আশঙ্কা রয়েছে কিংবা তার জীবন হুমকির মুখে পড়তে পারে।

বিজ্ঞাপন

তবে মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের মতে, মিয়ানমার যেখানে রোহিঙ্গাদের পরিচয়ই স্বীকার করে না, সেখানে তাদের ফেরত পাঠানো হলে নতুন করে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের ‘স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসইভাবে’ দেশে ফেরার উপযোগী প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বর্তমানে মিয়ানমারে নেই।

এদিকে মালয়েশিয়ায় থাকা অনেক অভিবাসী বর্তমানে আটককেন্দ্রেও রয়েছেন। ফলে তাদের দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত কতটা স্বাধীনভাবে নেওয়া হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে এমন পরিস্থিতিতে মিয়ানমারের নতুন করে পরিচয় অস্বীকার এবং নিরাপদ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ না থাকার বিষয়টি জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

সূত্র: বিবিসি

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD