মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিদায় নেওয়া ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কোনো পথ নেই

ভবিষ্যতে ইরানে আবার হামলা চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্রকে অপ্রচলিত ও বহুমাত্রিক পাল্টা জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ এ সতর্কবার্তা দেন।
বিজ্ঞাপন
একই দিনে ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি বলেন, দক্ষিণ ইরানে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ওয়াশিংটনের হতাশা ও কৌশলগত অচলাবস্থার প্রকাশ। তার দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরে যাওয়া ছাড়া আর কোনো পথ নেই।
ভবিষ্যতে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার বিষয়ে সতর্ক করে রেজা আরেফ বলেন, সাম্প্রতিক হামলার পর ইরানের নিরাপত্তা মূল্যায়ন ও প্রতিরক্ষা কৌশলে পরিবর্তন এসেছে। এখন থেকে ইরানের প্রতিক্রিয়া এমনভাবে দেওয়া হবে, যাতে হামলাকারী পক্ষ নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে।
শুধু সামরিক প্রতিক্রিয়াই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি নিয়েও সতর্কবার্তা দিয়েছেন ইরানের এই ভাইস প্রেসিডেন্ট। তিনি মার্কিন নাগরিকদের পেট্রোল ও জ্বালানি মজুত করার বিষয়টি বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন। তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির সামনে কঠিন সময় আসছে।
বিজ্ঞাপন
তবে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার জবাবে ইরান ঠিক কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে কিংবা তা যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতিতে কীভাবে প্রভাব ফেলতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি আরেফ।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সরাসরি সংঘাতের মধ্যেই এই বক্তব্য দিলেন তিনি। ফলে ইরানের সামরিক ও কৌশলগত অবস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হিসেবে বিবেচিত হয় হরমুজ প্রণালি।
সম্প্রতি ইরানের লারাক দ্বীপে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় সিরিক কাউন্টিতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলায় শিশুসহ পাঁচজন নিহত এবং আরও ৬৩ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।
বিজ্ঞাপন
এর প্রতিক্রিয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত, জর্ডান ও ইরাকে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালায় ইরানের সেনাবাহিনী ও ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ বজায় রেখেছে তেহরান। আগের সমঝোতায় যুক্তরাষ্ট্র তার প্রতিশ্রুতি পূরণ করলেই প্রণালিটি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান।
অন্যদিকে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’-এর আওতায় ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ইরানের তেল থেকে পাওয়া রাজস্বসহ গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক উৎসগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: ইরনা, মেহের নিউজ এজেন্সি








