Logo

কলকাতায় গিয়ে রাস্তায় থাকতে হচ্ছে বাংলাদেশি রোগী-স্বজনদের

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৯:৫৮
কলকাতায় গিয়ে রাস্তায় থাকতে হচ্ছে বাংলাদেশি রোগী-স্বজনদের
ছবি: সংগৃহীত

ভারতে চিকিৎসা নিতে যাওয়া বাংলাদেশি রোগী ও তাদের স্বজনদের বড় একটি অংশ এবার কলকাতায় আবাসন সংকটে পড়েছেন। সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের পর শহরের বিপুলসংখ্যক আবাসিক হোটেল ও গেস্ট হাউস বন্ধ করে দেওয়ায় চিকিৎসার পাশাপাশি থাকার জায়গা নিয়েও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন অনেকে। কেউ কেউ লাগেজ নিয়ে রাস্তায় অপেক্ষা করছেন, আবার কারও রাত কাটছে খোলা আকাশের নিচে।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ থেকে জটিল রোগের চিকিৎসা নিতে কলকাতায় যাওয়া রোগীদের অনেকেই হাসপাতালের কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করেন। বিশেষ করে ক্যানসার রোগীদের নিয়মিত চিকিৎসা, পরীক্ষা ও কেমোথেরাপির কারণে হাসপাতালের আশপাশে থাকা তাদের জন্য তুলনামূলক সুবিধাজনক। এ কারণে নিউ মার্কেটসহ ঠাকুরপুকুর ও মুকুন্দপুরের হাসপাতালসংলগ্ন এলাকাগুলো বাংলাদেশি রোগী ও স্বজনদের কাছে জনপ্রিয়।

গত ১৮ আগস্ট কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঘুমন্ত অবস্থায় নয়জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ওই ঘটনার পর কলকাতা পৌরসভা, ফায়ার সার্ভিস ও কলকাতা পুলিশ শহরের বিভিন্ন হোটেল ও গেস্ট হাউসে পরিদর্শন শুরু করে। অগ্নিনিরাপত্তা ও ভবনের অবকাঠামো যাচাইয়ের সময় বহু আবাসিক প্রতিষ্ঠানে নোটিশ দেওয়া হয়।

প্রশাসনের পদক্ষেপের পর পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকায় প্রায় ৮০০টি আবাসিক হোটেল ও গেস্ট হাউস বন্ধ হয়ে গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে বর্তমানে যেসব আবাসিক হোটেল চালু রয়েছে, সেগুলোতেও জায়গা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

দক্ষিণ কলকাতার ঠাকুরপুকুর এলাকায় অবস্থিত ডা. সরোজ গুপ্ত ক্যানসার সেন্টার অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট বাংলাদেশি রোগীদের অন্যতম পরিচিত চিকিৎসাকেন্দ্র। কম খরচে চিকিৎসার সুযোগ থাকায় প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে বহু রোগী সেখানে যান।

তবে হোটেল-গেস্ট হাউস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাসপাতালের বাইরে অপেক্ষা করতে দেখা যাচ্ছে অনেক রোগী ও তাদের স্বজনকে। শুধু বাংলাদেশ নয়, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে চিকিৎসার জন্য আসা রোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যরাও একই সমস্যায় পড়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, বৃষ্টির মধ্যেও অনেকে লাগেজ নিয়ে রাস্তার পাশে অবস্থান করছেন।

চট্টগ্রাম থেকে চিকিৎসার জন্য ঠাকুরপুকুরে যাওয়া সামিয়া বেগম ও তার স্বামী মাহবুব আলম গত ২৭ আগস্ট কলকাতায় পৌঁছান। তাদের ৪ সেপ্টেম্বর হাসপাতাল থেকে রিপোর্ট পাওয়ার কথা এবং কেমোথেরাপি দেওয়ার কথা রয়েছে। তারা স্থানীয় একটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন। পরে পুলিশ গিয়ে হোটেল ছাড়তে বলায় তারা বিপাকে পড়েছেন বলে জানান।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

ঢাকার ক্যানসার আক্রান্ত নাফিজা বলেন, ‘আমরা সরকারকে ট্যাক্স দিয়ে এখানে চিকিৎসা করাতে এসেছি। আমরা অসুস্থ রোগী। আমাদের হোটেল থেকে বের করে দিয়েছে। এখন আমরা বাইরে বসে আছি। চিকিৎসা না করে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার মতো অবস্থাও আমাদের নেই। সরকারের কাছে আবেদন, আমাদের জন্য কিছু একটা ব্যবস্থা করুন।’

বিজ্ঞাপন

হাসপাতালের পরিচালক ডা. অর্ণব গুপ্ত জানান, চিকিৎসার জন্য আসা অনেক বাংলাদেশি রোগী বর্তমান পরিস্থিতিতে সমস্যায় পড়েছেন। হাসপাতালের সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের সহযোগিতা করা হচ্ছে, তবে সবাইকে আবাসনের ব্যবস্থা করে দেওয়া সম্ভব নয়।

তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ মিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। মিশনের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

ফলে কলকাতায় চিকিৎসা নিতে আসা বাংলাদেশি রোগীদের জন্য এখন চিকিৎসার পাশাপাশি নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসনের ব্যবস্থা করাটিও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD