হরমুজে মার্কিন জাহাজে হামলার দাবি ইরানের, যুক্তরাষ্ট্র বলল ‘ডাহা মিথ্যা’

হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করা একটি মার্কিন চালকবিহীন নৌযানে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। তবে ইরানের এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। মার্কিন কর্মকর্তারা ঘটনাটিকে ‘ডাহা মিথ্যা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই সর্বশেষ এ পাল্টাপাল্টি বক্তব্য সামনে এলো।
বিজ্ঞাপন
এর এক দিন আগে মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজে হামলার জবাব দেওয়ার কথা জানিয়ে ইরানের তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। জুনে যুদ্ধবিরতির একটি চুক্তি হলেও পরবর্তী সময়ে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় সংঘাত পুরোপুরি থামেনি। প্রায় এক মাস তুলনামূলক শান্ত থাকার পর গত সপ্তাহে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সপ্তাহের শুরুতে দক্ষিণ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হওয়ার কথা জানানো হয়।
চলমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় ট্রাম্প প্রশাসন সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে অর্থ লেনদেনে জড়িত বিদেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলা করে আসা ইরানের নতুন নেতৃত্বও সহজে ছাড় দিতে রাজি নয়।
বিজ্ঞাপন
নিষেধাজ্ঞার প্রভাব সামাল দিতে ইরান গোপন নৌবহরের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্রেতার কাছে তেল বিক্রি করে অর্থনীতি সচল রাখার চেষ্টা করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মূলত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করেই যুক্তরাষ্ট্র ও দেশটির মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত। চুক্তি মেনে চলার ক্ষেত্রে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি ইরানকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে নেওয়ার উদ্যোগ নিতে চাইছে।
অন্যদিকে, বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিকে নিজেদের কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে ইরান। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথকে ঘিরে দুই দেশের উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি, সিনহুয়া








