Logo

স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় ৬৮ মৃত্যু, তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১৪:৩৯
স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় ৬৮ মৃত্যু, তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক
ছবি: সংগৃহীত

স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় অন্তত ৬৮ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) থেকে এই শোক পালন শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে রেলওয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি পাওয়া গেলে তা দ্রুত সংশোধনের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে স্পেনের মধ্যাঞ্চলের তোলেদো প্রদেশে দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দুর্ঘটনার পর স্পেনের রেলওয়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, চলতি বছরের শুরুতে একই রেলপথে ঘটে যাওয়া আরেকটি দুর্ঘটনায় ৪৮ জন নিহত হয়েছিলেন। তবে প্রাথমিক পর্যালোচনায় বর্তমান দুর্ঘটনার সঙ্গে আগের ঘটনার কোনো মিল পাওয়া যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শেষ হওয়ার পরই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

বিজ্ঞাপন

স্পেনের উচ্চগতির রেলব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর ভাষায়, স্পেনের মতো দেশে একই বছরে উচ্চগতির ট্রেনের দুটি দুর্ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যাত্রীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে পরিবহনমন্ত্রী জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাস্থলের রেললাইনের প্রধান এলজেডবি সিগন্যালে ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। এরপর ওই এলাকায় চলাচলরত সব ট্রেনকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে থামার সংকেত দেওয়া হয়।

দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রেন দুটি ছিল ‘রেনফে হাইস্পিড ট্রেন’ ও ‘ইরো ট্রেন’। উভয় ট্রেনই মাদ্রিদ থেকে সোয়েদাদে যাচ্ছিল। দুর্ঘটনার সময় রেনফে ট্রেনটি পেছনে এবং ইরো ট্রেনটি প্রায় ২৫ কিলোমিটার সামনে ছিল।

বিজ্ঞাপন

সিগন্যাল ব্যবস্থায় ত্রুটি দেখা দেওয়ার পর স্পেনের সরকারি রেল অবকাঠামো পরিচালনাকারী সংস্থা আদিফ ট্রেন চলাচলের কমান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেয়।

এরপর দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা রেনফে হাইস্পিড ট্রেনটিকে চলার অনুমতি দেন। যদিও সিগন্যালে তখন লালবাতি জ্বলছিল। অন্যদিকে, ২৫ কিলোমিটার সামনে থাকা ইরো ট্রেনটি দাঁড়িয়েই ছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, লাল সংকেত থাকা সত্ত্বেও রেনফে ট্রেনটিকে চলার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে ট্রেনটির জন্য কোনো গতিসীমা নির্ধারণ করা হয়নি। ফলে ঘণ্টায় প্রায় ২০০ কিলোমিটার গতিতে চলতে থাকা রেনফে ট্রেনটি সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ইরো ট্রেনের সঙ্গে সজোরে সংঘর্ষে জড়ায়।

বিজ্ঞাপন

এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণহানির পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ, সিগন্যাল ব্যবস্থার ত্রুটি এবং ট্রেন চলাচলের অনুমতি দেওয়ার প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সূত্র: বিবিসি

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD