হামের ঝুঁকি থেকে বাঁচতে জেনে নিন প্রতিরোধের উপায়

হাম (Measles) একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা নাক ও গলায় থাকা ভাইরাসের মাধ্যমে ছড়ায়। রোগের প্রভাব গুরুতর হতে পারে, হাসপাতাল ভর্তি এবং এমনকী মৃত্যুও ঘটতে পারে। হাম আক্রান্তদের মধ্যে ডায়রিয়া, কানের সংক্রমণ, মস্তিষ্কের ক্ষতি, শ্রবণশক্তি হ্রাস বা অন্ধত্বের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে।
বিজ্ঞাপন
বিশেষভাবে গর্ভবতী মহিলা, শিশু এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি বেশি। বর্তমানে হামের কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই।
হাম কীভাবে ছড়ায়?
সংক্রামিত ব্যক্তি কাশি বা হাঁচি করলে ভাইরাস বাতাসের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। হামের টিকা না নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ৯০% ভাইরাসের সংস্পর্শে এলে তারা সংক্রমিত হন। সংক্রমিত ব্যক্তির সঙ্গে একই বাতাসে থাকা বা সংক্রমিত স্থান থেকে দুই ঘণ্টা পরে থাকা হলেও আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া ভাইরাসের উপসর্গ দেখা দেওয়ার আগে থেকেই এটি ছড়াতে পারে।
বিজ্ঞাপন
হামের সাধারণ লক্ষণ
১. উচ্চ জ্বর (১০১°–১০৪° ফারেনহাইট বা তার বেশি)
২. কাশি
বিজ্ঞাপন
৩. নাক দিয়ে পানি পড়া
৪. চোখ লাল হয়ে পানি পড়া
৫. মুখের ভেতরে ছোট ছোট সাদা দাগ (কপলিক স্পট)
বিজ্ঞাপন
৬. লাল দাগের র্যাশ, যা সাধারণত মুখ বা চুলের গোড়া থেকে শুরু করে শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়ায়
হাম হলে কী করবেন?
১. অবিলম্বে আপনার স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করুন এবং লক্ষণগুলো জানান।
বিজ্ঞাপন
২. স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশ ছাড়া জরুরি বিভাগ বা হাসপাতালে যাবেন না, যাতে অন্যদের সংক্রমণ না হয়।
৩. মাস্ক পরুন, অন্যদের সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য।
৪. কাশি বা হাঁচির সময় টিস্যু দিয়ে মুখ ও নাক ঢাকুন; ব্যবহৃত টিস্যুটি ময়লার ঝুড়িতে ফেলুন। টিস্যু না থাকলে কনুই বা জামার উপরের অংশ ব্যবহার করুন।
বিজ্ঞাপন
৫. ঘন ঘন সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধুয়ে নিন।
৬. পানীয় বা খাবারের বাসনপত্র ভাগাভাগি করে ব্যবহার করবেন না।
৭. ঘন ঘন স্পর্শ করা পৃষ্ঠতল, দরজার হ্যান্ডেল, টেবিল, কাউন্টার ও ব্যবহারকৃত ইলেকট্রনিক ডিভাইস জীবাণুমুক্ত করুন।
বিজ্ঞাপন
হাম প্রতিরোধের জন্য টিকা গ্রহণ এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নিরাপদে সমাজে রোগ ছড়ানো প্রতিরোধ করা সম্ভব। সতর্কতা অবলম্বন করে এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করে নিজেকে ও পরিবারকে রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।








