Logo

অতিরিক্ত বড় স্তনে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি, ভুগছেন বহু নারী

profile picture
জনবাণী ডেস্ক
২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ২০:০৬
অতিরিক্ত বড় স্তনে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি, ভুগছেন বহু নারী
ছবি: সংগৃহীত

অনেকের কাছে বড় আকৃতির স্তন সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হলেও বাস্তবে এটি অনেক নারীর জন্য শারীরিক ও মানসিক ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। চিকিৎসক ও গবেষকদের মতে, অতিরিক্ত বড় স্তন নারীদের শরীরে বিভিন্ন জটিলতা তৈরি করতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

বিজ্ঞাপন

আর্জেন্টিনার এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, কৈশোরকাল থেকেই বড় স্তনের কারণে তাকে লজ্জা ও অস্বস্তির মধ্যে থাকতে হয়েছে। বিষয়টি আড়াল করতে তিনি দীর্ঘদিন কুঁজো হয়ে হাঁটতেন। ফলে এখন তার শরীরে স্থায়ী ব্যথা অনুভূত হয়, যা দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত বড় স্তনের কারণে দীর্ঘস্থায়ী ঘাড় ও পিঠের ব্যথা, মাথাব্যথা, শরীরের ভঙ্গির সমস্যা, অবশভাব এবং ঘুমের ব্যাঘাত দেখা দিতে পারে। শুধু শারীরিক নয়, এ ধরনের সমস্যার কারণে মানসিক চাপ ও আত্মবিশ্বাসের ঘাটতিও তৈরি হয়।

বিজ্ঞাপন

গবেষণায় উঠে এসেছে, এই সমস্যায় ভোগা অনেক নারী স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা কিংবা ব্যায়াম করতে পারেন না। এমনকি দৈনন্দিন পছন্দের কাজ থেকেও তারা ধীরে ধীরে দূরে সরে যেতে বাধ্য হন।

চিকিৎসকদের মতে, বড় স্তনের অতিরিক্ত ওজনের কারণে শরীর স্বাভাবিকভাবে সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে, ফলে ঘাড় ও পিঠে বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া সঠিক মাপের এবং পর্যাপ্ত সমর্থন দিতে পারে এমন অন্তর্বাস খুঁজে পাওয়াও অনেক সময় কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, নারীরা পর্যাপ্ত সাপোর্টের জন্য একসঙ্গে দুই বা তিনটি অন্তর্বাস ব্যবহার করেন, যা যেমন অস্বস্তিকর, তেমনি ব্যয়ও বাড়িয়ে দেয়।

বিজ্ঞাপন

এদিকে বিশ্বজুড়ে স্তনের আকার ছোট করার অস্ত্রোপচারের প্রবণতাও বাড়ছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক নারী এই অস্ত্রোপচার করাচ্ছেন, যার মূল কারণ শুধু সৌন্দর্য নয়, বরং স্বস্তি ও সুস্থতা ফিরে পাওয়া।

একজন ভুক্তভোগী জানান, অস্ত্রোপচারের পর তিনি নিজেকে অনেকটাই স্বাভাবিক ও স্বস্তিতে অনুভব করছেন। তার দৈনন্দিন কাজকর্ম এখন অনেক সহজ হয়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, সঠিক মাপের অন্তর্বাস ব্যবহার না করলে সমস্যা আরও বাড়তে পারে। এতে শুধু ব্যথাই নয়, ত্বক ও শরীরের অভ্যন্তরীণ অংশেও ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়।

তবে এখনো সমাজের একটি বড় অংশ বিষয়টিকে শুধুমাত্র সৌন্দর্যের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে থাকে। চিকিৎসকদের মতে, এটি আসলে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যগত সমস্যা, যা অবহেলা করলে ভবিষ্যতে গুরুতর জটিলতা দেখা দিতে পারে।

তাই শরীরে কোনো অস্বস্তি বা ব্যথা অনুভব করলে তা অবহেলা না করে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং জীবনযাপনে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিজ্ঞাপন

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD