Logo

ডায়াবেটিস রোগীরা ফলের রস কী খেতে পারবেন?

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১৬:০৩
ডায়াবেটিস রোগীরা ফলের রস কী খেতে পারবেন?
ছবি: সংগৃহীত

অনেকেই সকালে এক গ্লাস তাজা ফলের রস দিয়ে দিন শুরু করেন। এটি স্বাস্থ্যকর মনে হলেও বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়াতে পারে—শুধু ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রেই নয়, যাদের ডায়াবেটিস নেই তাদের ক্ষেত্রেও।

বিজ্ঞাপন

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফলের রসে থাকা প্রাকৃতিক চিনি যেমন গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ দ্রুত রক্তে মিশে যায়। ফল থেকে রস তৈরি করার সময় এর বেশিরভাগ ফাইবার বা আঁশ নষ্ট হয়ে যায়। এই ফাইবার সাধারণত রক্তে শর্করার শোষণ ধীর করে দেয়। ফলে ফাইবার না থাকায় শর্করা দ্রুত রক্তে প্রবেশ করে, যাকে গ্লুকোজ স্পাইক বলা হয়।

স্বাভাবিকভাবে শরীর ইনসুলিন নিঃসরণ করে এই শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। তবে ঘন ঘন এমন স্পাইক হলে দীর্ঘমেয়াদে এটি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে যারা নিয়মিত বেশি পরিমাণে ফলের রস পান করেন।

বিজ্ঞাপন

গবেষণায় যা পাওয়া গেছে : আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন–এর তথ্য অনুযায়ী, একটি দীর্ঘমেয়াদি গবেষণায় দেখা গেছে শৈশব ও কৈশোরে নিয়মিত চিনিযুক্ত পানীয় ও ফলের রস (প্রতিদিন ৮ আউন্স বা তার বেশি) গ্রহণের সঙ্গে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ার সম্ভাব্য সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে ছেলেদের ক্ষেত্রে এই প্রবণতা বেশি দেখা গেছে।

প্যাকেটজাত রস কি নিরাপদ : বিশেষজ্ঞদের মতে, প্যাকেটজাত ফলের রস তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, কারণ এতে অতিরিক্ত চিনি ও প্রিজারভেটিভ যোগ করা থাকে। এমনকি তাজা ফলের রসও বেশি পরিমাণে খেলে ক্যালোরি বাড়ে এবং ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি করে।

বিজ্ঞাপন

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, ফলের রসের চেয়ে পুরো ফল খাওয়া বেশি উপকারী। কারণ পুরো ফলে ফাইবার, ভিটামিন ও মিনারেল থাকে, যা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

সব মিলিয়ে, ডায়াবেটিস না থাকলেও ফলের রস অতিরিক্ত খেলে রক্তে গ্লুকোজ হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে। তাই পরিমাণ সীমিত রাখা, খালি পেটে না খাওয়া এবং অতিরিক্ত চিনি ছাড়া ঘরে তৈরি রস বেছে নেওয়াই ভালো।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD