Logo

সুখী দাম্পত্যের জন্য বয়সের ব্যবধান কত হওয়া উচিত?

profile picture
জনবাণী ডেস্ক
২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১৫:৫৯
সুখী দাম্পত্যের জন্য বয়সের ব্যবধান কত হওয়া উচিত?
ছবি: সংগৃহীত

দাম্পত্য জীবনের স্থায়িত্ব কিংবা সুখের ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রীর বয়সের ব্যবধান কতটা হওয়া উচিত—এ প্রশ্নের কোনো একক বা নির্দিষ্ট উত্তর নেই। সমবয়সী দম্পতি থেকে শুরু করে এক বা দেড় দশকের বয়সের ব্যবধান থাকা দম্পতিদের মধ্যেও দীর্ঘস্থায়ী ও সুখী সম্পর্ক দেখা যায়। আবার বয়সের ব্যবধান খুব কম হলেও অনেক সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

মনস্তাত্ত্বিক ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, কাছাকাছি বয়সের কারণে চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে মিল তৈরি হতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদি ও শান্তিপূর্ণ দাম্পত্যের মূল ভিত্তি হলো পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সমঝোতা, বিশ্বাস এবং মানসিক পরিপক্বতা।

বয়সের ব্যবধানের ওপর ভিত্তি করে দাম্পত্য সম্পর্কের গতিপ্রকৃতিতে কিছুটা পার্থক্য দেখা যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বামী-স্ত্রীর বয়সের ব্যবধান ৫ থেকে ৭ বছর হলে মানসিক পরিপক্বতা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার মধ্যে ভালো ভারসাম্য তৈরি হতে পারে। এতে অনেক ক্ষেত্রে অযৌক্তিক মতবিরোধও কমে আসতে পারে। তবে বয়সের ব্যবধান ১০ বছর হলেও দুজনের মূল্যবোধ, চিন্তাভাবনা এবং জীবনের লক্ষ্য একই হলে তা দাম্পত্য সম্পর্কে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। এ ক্ষেত্রে কোনো একজনের একক কর্তৃত্ব যেন সম্পর্কের ওপর প্রভাব বিস্তার না করে, সে বিষয়ে সচেতন থাকা প্রয়োজন।

অন্যদিকে বয়সের ব্যবধান ২০ বছর বা তার বেশি হলে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, জীবনযাপন, শারীরিক সক্ষমতা কিংবা চিন্তাভাবনায় পার্থক্য তৈরি হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে এ ধরনের বয়সের ব্যবধান থাকা সত্ত্বেও গভীর বোঝাপড়া, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার মাধ্যমে অনেক দম্পতি সফলভাবে সংসার করছেন। ফলে শুধু বয়সের ব্যবধানকে একটি সম্পর্কের সফলতা বা ব্যর্থতার একমাত্র কারণ হিসেবে দেখা যায় না।

বিজ্ঞাপন

দাম্পত্য জীবনের দীর্ঘস্থায়িত্ব কেবলমাত্র একটি সংখ্যার ওপর নির্ভর করে না। ব্যবধান ৫-৭ বছর হওয়ার পরও অনেক দম্পতিকে বৈবাহিক জটিলতায় পড়তে দেখা যায়। একটি সুস্থ সম্পর্কের জন্য পারস্পরিক সম্মান ও বিশ্বাস, অকপট যোগাযোগ, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পাশে থাকা এবং লক্ষ্য ও ভাবনার সামঞ্জস্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দুটি মানুষের মানসিক নৈকট্য ও দায়বদ্ধতাই একটি সম্পর্কের স্থায়িত্ব নির্ধারণ করে।

তবে সন্তান গ্রহণের পরিকল্পনার ক্ষেত্রে বয়স একটি বড় বিবেচ্য বিষয়। বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, পুরুষের সন্তান জন্মদানের আদর্শ সময় ২১ থেকে ৩৫ বছর। ৩৫ বছরের পর শুক্রাণুর গুণমান কমতে থাকে এবং ৪০ পেরোলে তা প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে; এমনকি ৫০-এর পর অনেকেই প্রাকৃতিকভাবে পিতা হওয়ার সক্ষমতা হারান। নারীদের ক্ষেত্রে বিশের কোঠার শুরুর দিক এবং ২৫ থেকে ২৯ বছর মা হওয়ার জন্য সবচেয়ে নিরাপদ সময়। ত্রিশোর্ধ্ব নারীদের ক্ষেত্রে প্রজননক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায় এবং চল্লিশের পর গর্ভধারণ মা ও শিশু উভয়ের জন্যই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে সন্তান প্রত্যাশী হলে পুরুষের বয়স ৫০-এর নিচে এবং নারীর বয়স ৪০-এর নিচে থাকা ইতিবাচক হিসেবে দেখা হয়।

গবেষণাতেও বয়সের প্রভাবের বিভিন্ন দিক উঠে এসেছে। ২০১৭ সালের একটি অস্ট্রেলীয় গবেষণা অনুযায়ী, যেসব দম্পতির বয়সের ফারাক ১ থেকে ৩ বছর এবং পুরুষ সঙ্গী বয়সে বড়, তাদের সন্তুষ্টির মাত্রা বেশি। আবার বিয়ের ৬ থেকে ১০ বছরের মধ্যে যাদের বিচ্ছেদ ঘটে, তাদের বড় অংশের ক্ষেত্রে বয়সের ব্যবধান ছিল ৭ বছর বা তার বেশি। তবে এটি কোনো চূড়ান্ত নিয়ম নয়; বড় ব্যবধান থাকার পরও বহু বছর সুখে সংসার করছেন এমন দৃষ্টান্তও অঢেল।

বিজ্ঞাপন

এমনকি নারীর বয়স পুরুষের চেয়ে বেশি হওয়া সত্ত্বেও বহু দম্পতি সফল জীবন কাটাচ্ছেন। ভোগ সাময়িকীকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মডেল ইলিলি জানান, তার ৫৩ বছর বয়সী বাবা ভেঙ্কট রমণ ও ৪৩ বছর বয়সী মা পূর্ণিমা দীর্ঘ ২১ বছর ধরে সুখী দাম্পত্যে আছেন; যেখানে বয়সের ফারাক কোনো সমস্যা তৈরি করেনি। দিনশেষে দুজনের আন্তরিকতা, যত্ন ও মানসিক বন্ধনই মুখ্য—আর তা নিশ্চিত থাকলে বয়স কেবলই একটি সংখ্যা হয়ে দাঁড়ায়।

সবশেষে বলা যায়, দাম্পত্য জীবনে বয়সের ব্যবধানের চেয়ে দুজন মানুষের পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আন্তরিকতা, যত্ন, বিশ্বাস ও মানসিক বন্ধন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সম্পর্কের মধ্যে বোঝাপড়া ও দায়িত্ববোধ বজায় থাকলে বয়সের ব্যবধান অনেক সময়ই বড় কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। তাই স্বামী-স্ত্রীর বয়সের ব্যবধানকে শুধু একটি সংখ্যা হিসেবে না দেখে দুজনের মানসিক সামঞ্জস্য ও পারস্পরিক সম্পর্ককেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD