নারীদের শরীরে অতিরিক্ত লোম কেন হয়, জানুন কারণ

নারীদের শরীরের কিছু অংশে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি লোম দেখা দিলে অনেকেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। শরীরে অতিরিক্ত লোম গজানোর পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। দীর্ঘদিন চর্মরোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত স্টেরয়েডযুক্ত মলম থেকে শুরু করে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা—বিভিন্ন কারণেই এ সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বিজ্ঞাপন
তবে অতিরিক্ত লোমের কারণ বোঝার ক্ষেত্রে শুধু লোমের পরিমাণ নয়, শরীরের কোন অংশে লোম বাড়ছে এবং লোমের ধরন কেমন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
স্টেরয়েডের মলম থেকেও বাড়তে পারে লোম
একজিমার মতো চর্মরোগের আক্রান্ত স্থানে দীর্ঘদিন স্টেরয়েডযুক্ত মলম ব্যবহার করলে ওই জায়গায় অতিরিক্ত লোম গজাতে পারে। এ অবস্থাকে অতিরিক্ত লোম গজানো হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
বিজ্ঞাপন
এ ধরনের ক্ষেত্রে লোম সাধারণত খুব সূক্ষ্ম, হালকা, নরম ও ছোট হয়ে থাকে। ত্বকের ওপর থাকা স্বাভাবিক সূক্ষ্ম লোমের মতোই দেখতে হতে পারে।
নিয়মিত স্টেরয়েডের মলম ব্যবহার করা কোনো নির্দিষ্ট জায়গায় যদি একই ধরনের লোম বাড়তে দেখা যায়, তাহলে ওই মলম এর সম্ভাব্য কারণ হতে পারে। মলমের ব্যবহার বন্ধ করার পর অনেক ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে লোমের বৃদ্ধি কমে যায়। তবে কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা দীর্ঘ সময় স্থায়ীও হতে পারে।
বর্তমানে একজিমাসহ বিভিন্ন চর্মরোগের চিকিৎসায় স্টেরয়েডের পাশাপাশি আরও নানা ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি রয়েছে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজন হলে ওষুধ পরিবর্তন করা হলে সময়ের সঙ্গে অতিরিক্ত লোমের সমস্যাও কমে আসতে পারে।
বিজ্ঞাপন
শুধু মলম নয়, থাকতে পারে আরও কারণ
শরীরের বড় একটি অংশজুড়ে অতিরিক্ত লোম দেখা দিলে এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, সেটিও বিবেচনা করা প্রয়োজন।
দীর্ঘদিন মুখে খাওয়ার স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ গ্রহণ করলেও শরীরে অতিরিক্ত লোম গজাতে পারে। এ ছাড়া থাইরয়েড গ্রন্থি স্বাভাবিকের তুলনায় কম সক্রিয় হলেও এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বিজ্ঞাপন
প্রাপ্তবয়স্কদের শরীরে বৃদ্ধির হরমোন অতিরিক্ত পরিমাণে তৈরি হলেও শরীরের বিভিন্ন অংশে লোমের বৃদ্ধি বাড়তে পারে।
নারীদের মুখে মোটা লোম কেন হয়
নারীদের মুখ বা শরীরের এমন কিছু স্থানে যদি স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি মোটা ও কালো লোম গজায়, যেখানে সাধারণত খুব বেশি লোম থাকে না, তাহলে বিষয়টি আলাদাভাবে বিবেচনা করা হয়।
বিজ্ঞাপন
এ ধরনের লোম সাধারণত ওপরের ঠোঁট, থুতনি, বুক এবং স্তনবৃন্তের চারপাশে দেখা যেতে পারে। এসব লোম সাধারণত সূক্ষ্ম বা হালকা হয় না; বরং তুলনামূলকভাবে মোটা ও গাঢ় রঙের হয়ে থাকে।
অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের অন্য নারীদের মধ্যেও একই ধরনের লোমের প্রবণতা দেখা যায়। সে ক্ষেত্রে এটি বংশগত কারণেও হতে পারে।
হরমোনের সমস্যাও হতে পারে কারণ
বিজ্ঞাপন
নারীদের শরীরে পুরুষ হরমোনের মাত্রা বেড়ে গেলেও মুখ ও শরীরের বিভিন্ন অংশে অতিরিক্ত মোটা লোম গজাতে পারে।
এ ধরনের সমস্যা অনেক সময় ডিম্বাশয়ের হরমোন ও বিপাকসংক্রান্ত সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত থাকে। তুলনামূলকভাবে কম ক্ষেত্রে অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির সমস্যাও এর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।
এ ছাড়া অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা মোটা ও গাঢ় লোমের বৃদ্ধি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
বিজ্ঞাপন
কারণ জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি
শরীরে অতিরিক্ত লোম গজানোর পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। তাই শুধু লোমের ধরন দেখে নিজে থেকেই কোনো রোগ বা হরমোনজনিত সমস্যা হয়েছে বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
শরীরের কোন অংশে লোম বাড়ছে, লোমের ধরন কেমন, কতদিন ধরে এমন হচ্ছে এবং দীর্ঘদিন ধরে কোনো ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে কি না—এসব বিষয় বিবেচনা করে চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরামর্শ দিতে পারেন।
বিজ্ঞাপন
প্রয়োজনে অতিরিক্ত লোম কমানো বা দূর করার বিভিন্ন পদ্ধতি নিয়েও চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা যেতে পারে। তাই হঠাৎ করে বা অস্বাভাবিকভাবে শরীরের কোনো অংশে লোমের বৃদ্ধি চোখে পড়লে বিষয়টি অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
সূত্র: হার্ভার্ড








