Logo

ডেঙ্গুর পর হঠাৎ চুল পড়া বেড়েছে? জেনে নিন কারণ ও করণীয়

profile picture
জনবাণী ডেস্ক
১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১৯:০১
ডেঙ্গুর পর হঠাৎ চুল পড়া বেড়েছে? জেনে নিন কারণ ও করণীয়
ছবি: সংগৃহীত

ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার পরও শরীরে কিছু পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। জ্বর কমে যাওয়ার কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস পর অনেকের চুল পড়ার পরিমাণ বেড়ে যায়। বালিশে, গোসলের সময় কিংবা চিরুনিতে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি চুল দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন অনেকে। তবে অসুস্থতার পর এ ধরনের চুল পড়া অনেক ক্ষেত্রে সাময়িক। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই সমস্যাকে বলা হয় ‘টেলোজেন এফ্লুভিয়াম’।

বিজ্ঞাপন

বিশেষজ্ঞদের মতে, গুরুতর সংক্রমণ, দীর্ঘস্থায়ী জ্বর, শারীরিক দুর্বলতা ও পুষ্টির ঘাটতির কারণে চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি চক্রে পরিবর্তন আসতে পারে। ফলে অসুস্থতা থেকে সেরে ওঠার পরও চুল ঝরতে থাকে। ডেঙ্গু-পরবর্তী চুল পড়ার সম্ভাব্য কারণ, প্রতিরোধ এবং যত্ন সম্পর্কে কয়েকটি বিষয় জেনে রাখা জরুরি।

ডেঙ্গুর পর চুল পড়ে কেন?

মানুষের চুলের গোড়া স্বাভাবিক নিয়মে বৃদ্ধি, বিশ্রাম ও ঝরে পড়ার বিভিন্ন পর্যায়ের মধ্য দিয়ে যায়। উচ্চমাত্রার জ্বর, সংক্রমণ, পানিশূন্যতা, মানসিক চাপ, ক্ষুধামন্দা কিংবা দ্রুত ওজন কমে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিতে এই চক্র ব্যাহত হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

এ সময় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি চুল বিশ্রাম পর্যায়ে চলে যায়। পরে সেসব চুল একসঙ্গে ঝরে পড়তে শুরু করে। এ কারণেই অসুস্থতার সময় চুল পড়ার সমস্যা তেমন বোঝা না গেলেও সুস্থ হওয়ার পর তা স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।

সাধারণত শারীরিক চাপের ঘটনার দুই থেকে চার মাস পর টেলোজেন এফ্লুভিয়ামের কারণে চুল পড়া বেশি লক্ষণীয় হয়। তাই ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হওয়ার কয়েক মাস পর চুল ঝরতে শুরু করলে আগের অসুস্থতার সঙ্গে এর সম্পর্ক থাকতে পারে।

ডেঙ্গুর পর চুল পড়া কি স্থায়ী?

বিজ্ঞাপন

ডেঙ্গু-পরবর্তী চুল পড়া নিয়ে অনেকের মনে স্থায়ীভাবে টাক হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। তবে টেলোজেন এফ্লুভিয়ামের ক্ষেত্রে সাধারণত চুলের গোড়া স্থায়ীভাবে নষ্ট হয় না। মাথার নির্দিষ্ট স্থানে গোলাকার টাকের পরিবর্তে বিভিন্ন অংশে চুল পাতলা হয়ে যাওয়াই এ সমস্যার বৈশিষ্ট্য।

শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক হলে এবং চুলের বৃদ্ধিচক্র আগের নিয়মে ফিরলে নতুন চুল গজাতে শুরু করে। তবে মাথার চুল ধীরে বাড়ে বলে আগের ঘনত্ব ফিরে পেতে কয়েক মাস বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে।

এ ক্ষেত্রে সব চুল পড়ার জন্য ডেঙ্গুকে দায়ী করাও ঠিক নয়। আয়রনের ঘাটতি, থাইরয়েডের সমস্যা, অপর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণ, দ্রুত ওজন কমানো, হরমোনের পরিবর্তন কিংবা বংশগত কারণে চুল পাতলা হওয়ার সমস্যাও থাকতে পারে।

বিজ্ঞাপন

চুল অস্বাভাবিক হারে পড়তে থাকলে, দীর্ঘদিনেও না কমলে কিংবা মাথার নির্দিষ্ট অংশে টাকের মতো দেখা দিলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

চুলের স্বাস্থ্য ফেরাতে কী খাবেন?

ডেঙ্গু থেকে সেরে ওঠার পর শরীরের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করা গুরুত্বপূর্ণ। চুলের প্রধান উপাদান কেরাটিন একধরনের প্রোটিন। তাই খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত প্রোটিন রাখা প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপন

প্রোটিনের ভালো উৎস হতে পারে—

  • ডাল ও শিমজাতীয় খাবার: মসুর ডাল, ছোলা, শিম ও সয়াবিন।

  • দুগ্ধজাত খাবার: দুধ, দই ও পনির।

  • বিজ্ঞাপন

  • অন্যান্য উৎস: ডিম, মাছ, টোফু ও চর্বিহীন মাংস।

  • শরীরে আয়রনের ঘাটতি থাকলেও চুল পড়ার সমস্যা বাড়তে পারে। মসুর ডাল, শিম, সবুজ শাকসবজি ও তিল থেকে আয়রন পাওয়া যায়। এসব উদ্ভিজ্জ খাবারের সঙ্গে পেয়ারা, আমলকী, লেবু, টমেটো বা ক্যাপসিকামের মতো ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ খাবার খেলে আয়রন শোষণে সহায়তা হয়।

    তবে কোনো নির্দিষ্ট খাবার খেলেই ডেঙ্গুর পর চুল পড়া সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়ে যাবে, এমন প্রমাণ নেই। শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী সুষম খাদ্য গ্রহণই মূল বিষয়।

    বিজ্ঞাপন

    চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া উচ্চমাত্রার আয়রন, বায়োটিন, জিঙ্ক বা ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত নয়। প্রয়োজন ছাড়া এসব উপাদান গ্রহণে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। কিছু সাপ্লিমেন্ট নির্দিষ্ট চিকিৎসা পরীক্ষার ফলাফলও প্রভাবিত করতে পারে।

    ডেঙ্গুর পর চুলের যত্ন নেবেন যেভাবে

    ১. স্বাভাবিকভাবে চুল ধুতে হবে: চুল পড়ার ভয়ে শ্যাম্পু ব্যবহার বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। চুল ধোয়ার সময় আগে থেকেই ঝরে পড়ার পর্যায়ে থাকা চুল বেরিয়ে আসতে পারে।

    বিজ্ঞাপন

    ২. ভেজা চুলে সতর্ক থাকুন: ভেজা চুল সহজে ভেঙে যেতে পারে। তাই জোরে ঘষাঘষি না করে আলতোভাবে চুল শুকাতে হবে এবং সাবধানে আঁচড়াতে হবে।

    ৩. অতিরিক্ত তাপ ও রাসায়নিক ব্যবহার কমান: হেয়ার ড্রায়ারের অতিরিক্ত তাপ, ঘন ঘন রাসায়নিক ট্রিটমেন্ট এবং খুব শক্ত করে চুল বাঁধার অভ্যাস চুলের ক্ষতি বাড়াতে পারে।

    ৪. দ্রুত ওজন কমানোর চেষ্টা এড়িয়ে চলুন: অসুস্থতার পর শরীরের সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য পর্যাপ্ত ক্যালরি ও পুষ্টি প্রয়োজন। তাই ক্র্যাশ ডায়েট না করে সুষম খাবার খাওয়া উচিত।

    বিজ্ঞাপন

    ৫. পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম নিন: নিয়মিত ঘুম, বিশ্রাম এবং ধীরে ধীরে স্বাভাবিক কাজে ফিরে যাওয়া সামগ্রিক সুস্থতায় সহায়তা করে। তবে এসব অভ্যাসের ফলে চুল পড়া তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

    কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

    ডেঙ্গুর পর চুল পড়া সাময়িক হতে পারে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত চুল ঝরতে থাকলে, মাথার নির্দিষ্ট স্থানে টাক দেখা দিলে, মাথার ত্বকে চুলকানি বা প্রদাহ থাকলে কিংবা অন্য শারীরিক উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

    বিজ্ঞাপন

    প্রয়োজনে চিকিৎসক রক্তস্বল্পতা, আয়রনের ঘাটতি, থাইরয়েডের সমস্যা বা অন্য সম্ভাব্য কারণ শনাক্ত করতে পরীক্ষা দিতে পারেন।

    মনে রাখবেন: ডেঙ্গুর পর চুল পড়া মানেই স্থায়ী টাক নয়। সঠিক পুষ্টি, কোমল চুলের যত্ন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা নিলে অনেক ক্ষেত্রেই চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ফিরে আসে। তবে সমস্যার কারণ নিশ্চিত না করে নিজে থেকে ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা ঠিক নয়।

    জেবি/এসডি

    জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

    Developed by: AB Infotech LTD