Logo

বিবিসি’র বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন মাহদী হাসান

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১০ মার্চ, ২০২৬, ২১:৪০
বিবিসি’র বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন মাহদী হাসান
ছবি: সংগৃহীত

ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি’র বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন হবিগঞ্জের আলোচিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মাহদী হাসান। একটি প্রতিবেদনকে ভুয়া ও মানহানিকর দাবি করে সেটি অপসারণের জন্য ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে ১ কোটি টাকার মানহানি মামলা করার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গত রোববার (৮ মার্চ) পাঠানো ওই নোটিশে বিবিসির মহাপরিচালক টিম ডেভি এবং বিবিসি বাংলা’র প্রধান সম্পাদক মীর সাব্বির-কে উদ্দেশ্য করে আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি জানানো হয়। মাহদী হাসানের পক্ষে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এস এম শাহরিয়ার কবির এই নোটিশ পাঠান।

লিগ্যাল নোটিশে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণআন্দোলনের সময় মাহদী হাসান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন সক্রিয় সংগঠক ও জেলা প্রতিনিধি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ওই সময়কার রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে নোটিশে উল্লেখ করা হয়, আন্দোলনের সময় নিরাপত্তা বাহিনী ও তৎকালীন সরকারের বিভিন্ন সংস্থার বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছিল।

বিজ্ঞাপন

এ প্রসঙ্গে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় ওএইচসিএইচআর’র প্রকাশিত ‘OHCHR Fact-Finding Report: Human Rights Violations and Abuses related to the Protests of July and August 2024 in Bangladesh’ শীর্ষক প্রতিবেদনের কথাও উল্লেখ করা হয়। সেখানে দাবি করা হয়, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সংঘটিত ঘটনাবলীতে বহু মানুষ নিহত ও আহত হন।

আইনি নোটিশে বলা হয়েছে, এক পর্যায়ে এক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডার ঘটনায় মাহদী হাসানকে গ্রেপ্তার করা হলেও পরে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাকে জামিন দেন। বর্তমানে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য ফিনল্যান্ডে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ভিসা পাওয়ার চেষ্টা করছেন।

তবে নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে, যাচাইহীন তথ্য ও বিভ্রান্তিকর সূত্রের ওপর ভিত্তি করে গত ২১ ফেব্রুয়ারি বিবিসি বাংলা ‘মাহদী হাসানের সঙ্গে দিল্লিতে ঠিক কী হয়েছিল?’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরা হয়, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মানহানিকর বলে দাবি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

নোটিশে আরও বলা হয়, প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে মাহদী হাসান পর্তুগালের ভিসা নেওয়ার উদ্দেশ্যে বিদেশে গিয়েছিলেন এবং বিমানবন্দরের কাছের একটি হোটেলে অবস্থান করেছিলেন। পাশাপাশি তার কাছে ক্রিপ্টোকারেন্সি থাকার কথাও বলা হয়। এসব তথ্যকে অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করা হয়েছে।

এছাড়া এক পুলিশ কর্মকর্তা এসআই সন্তোষ চৌধুরীকে হত্যার সঙ্গে মাহদীর সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে, যা তার আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা। এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর মাহদী হাসান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা, সাইবার আক্রমণ এবং সামাজিকভাবে অপমানের শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ডিসেন্ট’ একটি ফ্যাক্টচেকভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যেখানে বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনের বিভিন্ন তথ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয় এবং বিকল্প প্রমাণ তুলে ধরা হয়।

বিজ্ঞাপন

আইনি নোটিশে দাবি করা হয়েছে, উক্ত প্রতিবেদনটি বাংলাদেশের দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ৪৯৯ অনুযায়ী মানহানিকর এবং ধারা ৫০০ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধের আওতায় পড়ে। এতে বলা হয়, প্রতিবেদনের কারণে মাহদী হাসান গুরুতর মানসিক চাপ, সামাজিক মর্যাদাহানি এবং আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। তার ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ১ কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে বিবিসি বাংলাকে ২১ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত প্রতিবেদনটি অপসারণ, সংশ্লিষ্ট সব প্ল্যাটফর্মে ক্ষমা প্রার্থনা এবং প্রতিবেদনের উৎস অনির্ভরযোগ্য ছিল বলে স্বীকার করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

নোটিশে আরও বলা হয়েছে, চিঠি পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এসব পদক্ষেপ না নিলে বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০ অনুযায়ী মানহানি মামলা, আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি এবং সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশ ২০২৫ অনুযায়ী পৃথক মামলা দায়ের করা হবে। পাশাপাশি আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং ক্ষতিগ্রস্তের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD