খাগড়াছড়ির নামে ছড়ানো ভিডিও নেপালের

পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়িতে এক মারমা কিশোরীকে গণধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। জেলাজুড়ে জারি রয়েছে ১৪৪ ধারা।
বিজ্ঞাপন
এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুটি ভিডিও ছড়িয়ে দাবি করা হচ্ছে, ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে সেনাবাহিনী ও বিজিবির ওপর হামলা চালিয়ে অস্ত্র লুট করছে ‘পাহাড়িরা’। আরেক ভিডিওতে বলা হচ্ছে, খাগড়াছড়িতে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে এবং শতাধিক তরুণ-তরুণী পালাচ্ছে।
তবে অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, ভিডিওগুলো খাগড়াছড়ির নয়, বরং নেপালের। ফ্যাক্টওয়াচ জানিয়েছে, জিওলোকেশন যাচাইয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে এসব ভিডিও কাঠমুন্ডুর বিভিন্ন এলাকা থেকে ধারণ করা। এগুলোর সঙ্গে খাগড়াছড়ির চলমান ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই।
বিজ্ঞাপন
ভিডিও যাচাই ১
প্রথম ভিডিওতে দাবি করা হয়েছিল, পাহাড়িরা সেনাবাহিনী ও বিজিবির ওপর হামলা চালিয়ে অস্ত্র লুট করেছে। কিন্তু ভিডিওটি রিভার্স ইমেজ সার্চে নেপালের কাঠমুন্ডুর জেনজি আন্দোলনের সময়কার হিসেবে শনাক্ত হয়। একই ভিডিও ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকে বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত হয়েছে। ভিডিওর দৃশ্য গুগল ম্যাপ ও কাঠমুন্ডুর গৌশালা পুলিশ সার্কেল কার্যালয়ের সঙ্গে মিলে গেছে। অর্থাৎ এটি বাংলাদেশের নয়।
ভিডিও যাচাই ২
বিজ্ঞাপন
দ্বিতীয় ভিডিওটিতে একটি ‘MobiMeds’ লেখা সাইনবোর্ড দেখা যায়। গুগল ম্যাপ অনুসন্ধানে সেটির অবস্থান পাওয়া যায় কাঠমুন্ডুর একটি ফার্মেসির সামনে। ফলে প্রমাণিত হয়, ভিডিওটি খাগড়াছড়ির কোনো দৃশ্য নয়, বরং নেপালের।
উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুতে নেপালে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে তরুণরা সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয়ভাবে ভিডিও শেয়ার করেছিল। ওইসব ভিডিওই এখন খাগড়াছড়ির পরিস্থিতির সঙ্গে মিশিয়ে বিভ্রান্তিকরভাবে প্রচার করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
সবশেষে, ফ্যাক্টওয়াচ এসব দাবিকে মিথ্যা বলে চিহ্নিত করেছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য ছড়ানো থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।







