Logo

আজ থেকে চালু হচ্ছে এনইআইআর, বন্ধ হয়ে যাবে যেসব হ্যান্ডসেট

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১ জানুয়ারী, ২০২৬, ১২:৪৫
48Shares
আজ থেকে চালু হচ্ছে এনইআইআর, বন্ধ হয়ে যাবে যেসব হ্যান্ডসেট
ফাইল ছবি।

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (০১ জানুয়ারি) থেকে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) কার্যক্রম চালু হচ্ছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে নেটওয়ার্কে নতুন যুক্ত হওয়া অবৈধ বা অনুমোদনহীন হ্যান্ডসেট বন্ধের প্রক্রিয়া কার্যকর হবে।

বিজ্ঞাপন

এর আগে ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এনইআইআর কার্যক্রম কিছুটা পিছিয়ে দেয়। অবিক্রীত বা স্টকে থাকা মোবাইল ফোনের আইএমইআই তথ্য জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়িয়ে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। গতকাল বছরের শেষ দিনে সেই সময়সীমা শেষ হয়েছে।

বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী বলেন, বর্তমানে নেটওয়ার্কে সচল থাকা অনুমোদিত বা অননুমোদিত কোনো হ্যান্ডসেটই বন্ধ করা হবে না। এমনকি ব্যবসায়ীদের কাছে থাকা অবিক্রীত যেসব হ্যান্ডসেটের আইএমইআই (ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি) তালিকা বিটিআরসিতে জমা দেওয়া হয়েছে, সেগুলোও বন্ধ হবে না। শুধু নতুন যেসব ফোন নেটওয়ার্কে যুক্ত হবে, সেগুলোই এই প্রক্রিয়ার আওতায় আসবে।

বিজ্ঞাপন

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, প্রবাসীরা তাদের ব্যবহৃত ফোনের পাশাপাশি দুটি নতুন হ্যান্ডসেট দেশে আনতে পারবেন। আর সেসব ফোন এনইআইআরে নিবন্ধনের জন্য তিন মাসের সময় পাবেন তারা। এই তিন মাস হ্যান্ডসেটগুলো সচল থাকবে। ভ্রমণসংক্রান্ত নথিপত্র দিয়ে এসব ফোন এনইআইআরে নিবন্ধন করা যাবে।

এদিকে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়ব বলেন, উপদেষ্টা পরিষদ যদি বৃহস্পতিবার হ্যান্ডসেট আমদানি ও উৎপাদন শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তবেই এনইআইআর চালু হবে।

বিজ্ঞাপন

এর আগে, গত ১০ ডিসেম্বর অবৈধ হ্যান্ডসেট বা ‘গ্রে মার্কেট’–এর ফোন বন্ধের প্রতিবাদে রাজধানীর কারওয়ান বাজার মোড়ে বিক্ষোভ ও অবরোধ করেন বিক্রেতারা। এর পরিপ্রেক্ষিতে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এনইআইআর চালুর কার্যক্রম তিন মাসের জন্য পিছিয়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছিল। তবে, বিটিআরসির এক কর্মকর্তা জানান, তিন মাস পেছানোর ওই সিদ্ধান্তের বিষয়ে কমিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

বিটিআরসি বলছে, অবৈধ হ্যান্ডসেট রোধ, চুরি হওয়া ফোন বন্ধ এবং মোবাইল বাজারের বিশৃঙ্খলা দূর করতেই এনইআইআর চালু করা হচ্ছে। কারিগরিভাবে এনইআইআর মূলত আইএমইআই, সিম নম্বর ও আইএমএসআই (ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল সাবস্ক্রাইবার আইডেন্টিটি)— এই তিনটি বিষয় যাচাই করে নেটওয়ার্ক সচল রাখে। এটি কোনো কল রেকর্ড করে না, মেসেজ পড়ে না কিংবা ইন্টারনেট কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে না।

তবে, এনইআইআর একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেসে ডিভাইস ও সিমকে স্থায়ীভাবে সংযুক্ত করায় নজরদারির উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এনইআইআর নিজে নজরদারির হাতিয়ার না হলেও সুরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হলে এটি নজরদারির সুযোগ তৈরি করতে পারে।

বিজ্ঞাপন

ভারত, পাকিস্তান, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলোতেও চুরি হওয়া ফোন বন্ধে একই ধরনের ব্যবস্থা চালু আছে। কিছু বিশেষজ্ঞ বলছেন, এনইআইআর ডিজিটাল অর্থনীতিতে জালিয়াতি রোধ করতে পারে। তবে সমালোচকদের মতে, এর বৈধতা নির্ভর করবে কঠোর আইনি তদারকি, স্বচ্ছতা, যৌক্তিকতা এবং গোপনীয়তা সুরক্ষার ওপর।

ফয়েজ আহমদ তৈয়ব আরও জানান, গত ২৪ ডিসেম্বর উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদিত সংশোধিত টেলিযোগাযোগ অধ্যাদেশে ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় স্পষ্ট বিধান রাখা হয়েছে। সিম ও ডিভাইস নিবন্ধনের মাধ্যমে নাগরিকদের নজরদারি বা হয়রানি নিষিদ্ধ করে একটি ধারা যুক্ত করা হয়েছে। এই বিধান লঙ্ঘন শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

জেবি/এসডি
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD