পাবলিক প্লেসে ধূমপান করলে জরিমানা পুলিশ করবে, পুলিশ করলে কী হবে

অন্তর্বর্তী সরকার ধূমপান ও তামাক নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন সংশোধন করে অধ্যাদেশ জারি করেছে। এতে ‘পাবলিক প্লেসে’ ধূমপানের আওতা বাড়ানো হয়েছে এবং জরিমানার হারও বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে যেখানে ৩০০ টাকা জরিমানা ছিল, তা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার টাকা। এছাড়া, নির্ধারিত স্থানে তামাকজাত পণ্য বিক্রি করলে জরিমানার পরিমাণ ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হবে।
বিজ্ঞাপন
প্রধান উপদেষ্টা পরিষদের প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, এই আইন বাস্তবায়নে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিশেষ করে পুলিশ, জরিমানা আদায় করবে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “যদি পুলিশ সদস্যরা পাবলিক প্লেসে ধূমপান করেন, আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। তাদেরকেও আইন অনুসারে শাস্তি ভোগ করতে হবে।”
এ তথ্য বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে দেওয়া হয়।
বিজ্ঞাপন
সরকারের এই কঠোর আইন ধূমপান ও তামাকজনিত ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বড় পদক্ষেপ বলে অভিহিত করা হচ্ছে।
৩০ ডিসেম্বর জারি করা গেজেট প্রসঙ্গে প্রেস সচিব বলেন, বাংলাদেশের তামাক এবং তামাকজাতদ্রব্য থেকে সরকারি হিসাবে প্রতিবছর ১ লক্ষ ৩ হাজারের বেশি মানুষের অকাল মৃত্যু ঘটে। এটা একটা মেজর কিলার। তো জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষার জন্য, উন্নত জনস্বাস্থ্যের জন্য সরকারের এই যে অধ্যাদেশ হল সেটা আমরা মনে করছি একটা ঐতিহাসিক অর্জন। এর ফলে আশা করা হচ্ছে যে বাংলাদেশে তামাক এবং তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার অনেকাংশেই কমে আসবে।
তিনি বলেন, এই অধ্যাদেশের মূল লক্ষ্য হচ্ছে তামাক ও নিকোটিনজাত দ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা, নতুন ও উদীয়মান তামাকপণ্যের বিস্তাররোধ করা, বিদ্যমান আইনের ফাঁক-ফোকর দূর করে একটি সমন্বিত কার্যকর আইনগত কাঠামো গড়ে তোলা। কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রধান নীতি পরিবর্তন করা হয়েছে। যেমন তামাকজাত দ্রব্যের সংজ্ঞায় ই-সিগারেট, ইএনডিএস, এইচটিপি, নিকোটিং পাউচ ইত্যাদিকে অন্তর্ভুক্ত করা। অনেক অনেক জায়গায় নতুন নতুন তামাকজাত পণ্য আসছে, নতুন মার্কেটিং করছেন তারা, অনেকের কাছে এটা পপুলারও হচ্ছে। কিন্তু এদেরও ক্ষতিকর প্রভাবটা অনেক।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে নতুন পণ্য গেজেটের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তির ক্ষমতা সরকারকে প্রদান করা হয়েছে। পাবলিক প্লেস সুরক্ষার আইনটা আগেও ছিল, কিন্তু এই পাবলিক প্লেসে আসলে প্রচুর লোক ধুমপান করেন, এই ক্ষেত্রে নিয়মগুলো অনেক ভায়োলেটেড হয়। এবার এই জিনিসগুলো সুরক্ষা করা হয়েছে এই এই বিষয়গুলো আরো স্পেসিফাই করা হয়েছে, এক্সপ্লেইন করা হয়েছে এবং পরিধি বাড়ানো হয়েছে পাবলিক প্লেসের। এর ফলে আশা করছি পাবলিক প্লেসে তামাকপণ্য ব্যবহার বা ধুমপান কমে আসবে।
শফিকুল আলম বলেন, সঙ্গতিশীল স্থানে বিক্রয় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, যেমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক ও শিশু পার্কের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক বিক্রয় নিষিদ্ধ। এমার্জিং টোবাকো প্রোডাক্ট নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর মধ্যে আছে ই-সিগারেট ও অন্যান্য উদীয়মান তামাক পণ্যের উৎপাদন, আমদানি, বিক্রয় ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কারাদণ্ডের ও অর্থদন্ডের বিধান, প্যাকেজিং সংস্কার, প্যাকেটের ৭৫ অংশজুড়ে রঙিন স্বাস্থ্য সতর্ক বাণী ও স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং বাধ্যতামূলক, আগে এটা ৫০% ছিল। আইন প্রয়োগ জোরদার করা হয়েছে, জরিমানা ও কারাদণ্ড বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং লাইসেন্স বাতিল ও মালামাল জব্দের বিধান রাখা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এ সময় এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, তামাক কোম্পানি বা তামাক সংক্রান্ত যে আইন, এতে প্রকাশিত কোম্পানির জন্য জরিমান বিধান রাখা হয়েছে। এই জরিমানাটা আদায় করবে কে? জবাবে প্রেস সচিব বলেন, জরিমানা আদায় করবে পুলিশ। পরবর্তীতে অপর এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, পাবলিক প্লেসে সিগারেট খেলে বা ধুমপান করলে শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এই আইন প্রয়োগ করবে পুলিশ, কিন্তু পুলিশকে তো পাবলিক প্লেসে সিগারেট খেতে দেখা যায়। এই বিষয়ে আসলে কী ধরনের নির্দেশনা আছে?
জবাবে প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, আইন সবার জন্য সমান। যিনি ল’ এনফোর্স করছেন তার জন্য যেরকম, যিনি ল’ ব্রেক করছেন তার জন্য সেরকম। কেউ যদি এটা ব্যত্যয় করে, অবশ্যই তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে।








