Logo

আজিমপুরে ১৪ কবরের মধ্যে ১৩টি পাকা, আমার ছেলের কবর এখনো কাঁচা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ১৬:১৯
আজিমপুরে ১৪ কবরের মধ্যে ১৩টি পাকা, আমার ছেলের কবর এখনো কাঁচা
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া ইউসুফের মা গভীর আক্ষেপের সঙ্গে জানিয়েছেন, আজিমপুর কবরস্থানে ১৪টি কবরের মধ্যে ১৩টি পাকা হলেও তার ছেলের কবরটি এখনও কাঁচা।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমি তো মা, প্রতি শুক্রবার কবর জিয়ারতে গিয়ে এই দৃশ্য দেখে বুকটা ফেটে যায়।

দুই বছর ধরে এক অফিস থেকে অন্য অফিসে ঘুরেও তার ছেলের আত্মত্যাগের যথাযথ স্বীকৃতি ও সম্মান না পাওয়ায় তিনি এই প্রতিকূল অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, দ্বারে দ্বারে ঘুরেও আমরা শুধু অবহেলা আর লাঞ্ছনা পাচ্ছি। কোথাও ঢুকতে দেয় না, গেটেই দূরে দাঁড় করিয়ে দেয়। এখন আমাকে প্রতিদিন হুমকি দেওয়া হয়—মেরে ফেলবে, কেটে ফেলবে। ছোট ছেলেকে স্কুলে ভর্তি করাতে পারছি না। এর জন্যই কি আমার সন্তান জীবন দিয়েছিল?

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে যাত্রাবাড়ীতে শহীদ শাওন তালুকদারের বাবা তার ব্যক্তিগত কষ্টের কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে তার ছেলে শহীদ হওয়ার পরও ২০২৬ সাল চলে এসেছে, অথচ এখনো তার ছেলের নাম শহীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

তিনি বলেন, ৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ীর মোড়ে তিনটি গুলি লেগে আমার ছেলে শহীদ হয়। জানুয়ারির ২১ তারিখে আজিমপুরে সব কাগজ জমা দিয়েছি। কিন্তু এখনো এমআইএস হয়নি, গেজেট হয়নি। শুধু বলা হয় প্রক্রিয়া বন্ধ।

একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তান হারানোর কারণে পরিবারের জীবন অতীত হয়েছে কঠোর কষ্টে।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শহীদ ও আহত সেলের সম্পাদক তামিম খান বলেন, সরকার শহীদ ও আহতদের তালিকাকরণ ও সেবা নিশ্চিতের দায়িত্ব নিলেও তা সঠিকভাবে পালন করা হয়নি।

তিনি জানান, ঢাকা জেলায় ৩২৯ জন শহীদ ও প্রথম ধাপে ১,৪৮৫ জন আহতের তালিকা নিশ্চিত করা হলেও গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে এমআইএস ও তালিকাকরণ কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তামিম খান অভিযোগ করে বলেন, অনেক আহত যোদ্ধার ভেরিফিকেশনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সেই পুলিশ সদস্যদের কাছে, যারা নিজেরাই আন্দোলনে গুলি চালিয়েছিল। এটি চরম অমানবিক ও লজ্জাজনক।

সংবাদ সম্মেলনে দ্রুত শহীদ ও আহতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ, গেজেট সম্পন্ন করা এবং রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়।

শহীদদের যথাযথ স্বীকৃতি না পাওয়া ও প্রশাসনিক গাফিলতির কারণে পরিবারগুলো এখনও গভীর যন্ত্রণার মধ্যে রয়েছে।

জেবি/এএস
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD