১৭ জানুয়ারি থেকে নির্বাচনী পর্যবেক্ষণে নামছে ইইউর পর্যবেক্ষক দল

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) আগামী ১৭ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণের লক্ষ্যে সারাদেশে তাদের পর্যবেক্ষক দল মাঠপর্যায়ে মোতায়েন করতে যাচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থান নিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন।
বিজ্ঞাপন
এই পর্যবেক্ষকরা নির্বাচন সংক্রান্ত কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে নিয়মিতভাবে ইইউর কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষণ দলের কাছে প্রতিবেদন পাঠাবেন। পর্যবেক্ষণের আওতায় থাকবে নির্বাচনী পরিবেশ, প্রচার কার্যক্রম, প্রশাসনিক প্রস্তুতি এবং ভোটারদের অংশগ্রহণের পরিস্থিতি।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে বাংলাদেশে অবস্থানরত ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের সদস্যরা প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তারা মিশনের কাঠামো, লক্ষ্য ও কার্যপরিধি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
আরও পড়ুন: বিশ্বের সপ্তম দুর্বল পাসপোর্ট বাংলাদেশের
বিজ্ঞাপন
সাক্ষাতে ইইউ ইলেকশন অবজারভেশন মিশনের পলিটিক্যাল অ্যানালিস্ট মারসেল নেগি এবং ইলেকশন অ্যানালিস্ট ভাসিল ভাসচেনকা উপস্থিত ছিলেন। তারা জানান, ইইউর নির্ধারিত আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ নীতিমালা অনুসরণ করেই পুরো কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
ইইউ প্রতিনিধিদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষকদের পাশাপাশি নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আরও ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক মিশনে যুক্ত হবেন। এসব পর্যবেক্ষক ভোটগ্রহণের দিন, ভোট গণনা এবং ফলাফল ঘোষণার পুরো প্রক্রিয়া সরাসরি পর্যবেক্ষণ করবেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাদের পর্যবেক্ষণ মিশন কোনো পক্ষের অনুকূলে নয়; বরং তথ্যভিত্তিক, নিরপেক্ষ ও সামগ্রিক মূল্যায়নের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার একটি স্বচ্ছ চিত্র আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরাই তাদের মূল লক্ষ্য।
বিজ্ঞাপন
নির্বাচন শেষে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ইইউ তাদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। একই সঙ্গে এ উপলক্ষে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হবে, যেখানে নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পর্কে তাদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন তুলে ধরা হবে।
সাক্ষাৎকালে অধ্যাপক আলী রীয়াজ ইইউর নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনকে স্বাগত জানান এবং সরকারের পক্ষ থেকে মিশনের কার্যক্রমে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম নির্বাচনী স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।








