ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চান প্রধান উপদেষ্টা

আগামী জাতীয় নির্বাচনের সময় ছড়িয়ে পড়া ভুয়া তথ্য এবং বিভ্রান্তি রোধে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ের সহায়তা চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) টেলিফোনে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্কের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
আলোচনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস জানান, নির্বাচনের আগে ভুয়া তথ্যের একটি বন্যা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিদেশি গণমাধ্যমের পাশাপাশি স্থানীয় বিভিন্ন উৎস থেকেও মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব, অনুমান ও মিথ্যা সংবাদ প্রচারের ফলে নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা সরকার উদ্বিগ্ন করছে।
জবাবে হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক জানান, বিষয়টি তার নজরে এসেছে এবং ভুয়া তথ্যের এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় বাংলাদেশের পাশে থাকবে।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, ভুয়া তথ্যের পরিমাণ অনেক। এ সমস্যা মোকাবিলায় যা প্রয়োজন, আমরা তা করব। এছাড়া জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।
টেলিফোনালাপে দুই পক্ষ আসন্ন গণভোট, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের গুরুত্ব, গুম সংক্রান্ত কমিশনের কার্যক্রম, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি) গঠন এবং বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন।
ভলকার তুর্ক গুম সংক্রান্ত বিষয়ে কার্যক্রম বাড়াতে “বাস্তব অর্থে স্বাধীন” একটি জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। জবাবে প্রধান উপদেষ্টা জানান, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের অধ্যাদেশ ইতোমধ্যেই জারি করা হয়েছে এবং ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে নতুন কমিশন পুনর্গঠন করা হবে।
বিজ্ঞাপন
প্রধান উপদেষ্টা আরও জানান, গুম সংক্রান্ত কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনারের কাছে হস্তান্তর করেছেন। ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে স্বৈরশাসনামলের সময় সংঘটিত গুমের শিকারদের জন্য ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এই প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
টেলিফোনালাপের সময় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ভলকার তুর্ক গত দেড় বছরে প্রধান উপদেষ্টার উদ্যোগগুলোকে প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও এই সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।








