সীমান্ত রক্ষায় শপথ নিলেন সেই ফেলানীর ছোট ভাই আরফান হোসেন

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে আলোচিত ফেলানী খাতুন হত্যাকাণ্ডের প্রায় পনেরো বছর পর সেই সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব নেওয়ার শপথ নিলেন তার ছোট ভাই মো. আরফান হোসেন। সীমান্তে নিহত বোনের স্মৃতি বুকে ধারণ করেই তিনি যোগ দিলেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি)।
বিজ্ঞাপন
২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলিতে নিহত ফেলানী খাতুনের মরদেহ দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা সীমান্তের কাঁটাতারে ঝুলে থাকার ঘটনা দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করলেও আজও সেই হত্যার বিচার শেষ হয়নি। ভারতের আদালতে মামলাটি এখনও বিচারাধীন রয়েছে।
যে সীমান্তে প্রাণ হারিয়েছিলেন ফেলানী, সেই সীমান্ত পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েই বুধবার (১৪ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বাইতুল ইজ্জতে অবস্থিত বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজের বীর উত্তম মজিবুর রহমান প্যারেড গ্রাউন্ডে বিজিবির ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচের সদস্য হিসেবে শপথ নেন আরফান হোসেন। পবিত্র কোরআনকে সাক্ষী রেখে তিনি এই শপথ গ্রহণ করেন।
বিজ্ঞাপন
সমাপনী কুচকাওয়াজ শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে আরফান হোসেন বলেন, এখন আমি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর একজন সৈনিক। আমি চাই না, আমার বোনের মতো আর কোনো পরিবারের সন্তান এভাবে প্রাণ হারাক। সীমান্ত রক্ষায় জীবন বিপন্ন হলেও চেষ্টা করব যেন আর কোনো মা-বাবাকে তাদের সন্তান হারাতে না হয়।
শৈশবের স্মৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ফেলানী হত্যার সময় তার বয়স ছিল মাত্র ছয়-সাত বছর। ওই ঘটনার পর থেকেই তার বাবা-মায়ের স্বপ্ন ছিল—তিনি যেন দেশের জন্য কাজ করেন। সেই লক্ষ্য নিয়েই নিজেকে প্রস্তুত করে বিজিবিতে যোগ দিয়েছেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
অনুষ্ঠান শেষে বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী আরফান হোসেনের খোঁজখবর নেন এবং তার সঙ্গে কিছু সময় কথা বলেন। বিজিবি প্রধান তাকে একজন সৎ ও নিষ্ঠাবান সৈনিক হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য উৎসাহ প্রদান করেন।
ফেলানীর ভাইয়ের এই শপথ অনেকের কাছেই শুধু একটি সামরিক দায়িত্ব গ্রহণ নয়, বরং একটি বেদনাবিধুর ইতিহাস থেকে উঠে আসা দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতীক হয়ে উঠেছে।








