Logo

শিপিং করপোরেশনকে টেকসই ও লাভজনক রাখার নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:২২
শিপিং করপোরেশনকে টেকসই ও লাভজনক রাখার নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার
ছবি: সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)কে একটি শক্তিশালী, স্বনির্ভর ও টেকসই লাভজনক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত রাখতে হবে। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিএসসি যে আর্থিক অগ্রগতি অর্জন করেছে, সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে সুদূরপ্রসারী ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিএসসির ছয়টি জাহাজ ক্রয় প্রকল্পের বিপরীতে গৃহীত ঋণের কিস্তি ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরের লভ্যাংশ বাবদ সরকারের পাওনা হিসেবে মোট ২০৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকার চেক প্রধান উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর করা হয়।

অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন এবং বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক প্রধান উপদেষ্টার হাতে চেক তুলে দেন।

বিজ্ঞাপন

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ভবিষ্যতে এমন পরিকল্পনা নিতে হবে যাতে সরকারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হয়ে বিএসসি নিজস্ব আয়ের মাধ্যমেই আরও শক্তিশালী হতে পারে। বহরে নতুন জাহাজ যুক্ত করে আয়ের সক্ষমতা বাড়ানো গেলে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ভিত্তি আরও মজবুত হবে।

তিনি আরও বলেন, বিএসসির বহরে জাহাজ সংখ্যা বাড়লে দেশের নাবিকদের মধ্যে কর্মস্পৃহা বৃদ্ধি পাবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নাবিক তৈরির লক্ষ্যে মেরিন একাডেমিগুলোর প্রশিক্ষকদের যথাযথ সম্মানী ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক জানান, সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) ভিত্তিতে ছয়টি নতুন জাহাজ সংগ্রহের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ও চীন সরকারের মধ্যে ২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর একটি ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চায়না এক্সিম ব্যাংকের মাধ্যমে নেওয়া এ ঋণের মূল পরিমাণ ছিল ১,১৯৯,৯৯৯,০৭০ ইউয়ান, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ৪৫৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।

বিজ্ঞাপন

ঋণ পরিশোধের লক্ষ্যে ২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর অর্থ বিভাগ ও বিএসসির মধ্যে একটি সাবসিডিয়ারি লোন অ্যাগ্রিমেন্ট (এসএলএ) স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ১৩ বছরের মধ্যে বিএসসিকে মোট ২ হাজার ৪২৫ কোটি ২ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হবে। এরই অংশ হিসেবে গ্রেস পিরিয়ডের সুদ বাবদ ৪৭৫ কোটি ২৫ লাখ টাকার বেশি অর্থ ইতোমধ্যে সরকারকে পরিশোধ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, দীর্ঘ ২৭ বছর পর ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিএসসির বহরে ছয়টি বাণিজ্যিক জাহাজ যুক্ত হয়। এর মধ্যে পাঁচটি জাহাজ—এমভি বাংলার জয়যাত্রা, বাংলার অর্জন, বাংলার অগ্রযাত্রা, বাংলার অগ্রদূত ও বাংলার অগ্রগতি—বর্তমানে আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনে সক্রিয়ভাবে নিয়োজিত রয়েছে এবং বাংলাদেশের পতাকা বহন করছে।

বিজ্ঞাপন

বিএসসি তাদের ৫৪ বছরের ইতিহাসে সর্বশেষ অর্থবছরে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে ৩০৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকা নিট মুনাফা অর্জন করেছে, যা প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এই সাফল্যের পেছনে বহরে যুক্ত নতুন জাহাজগুলোর অবদান গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনার আলোকে বিএসসি নতুন জাহাজ সংগ্রহের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। নিজস্ব অর্থায়নে দুটি বাল্ক ক্যারিয়ার সংগ্রহের অংশ হিসেবে ‘বাংলার প্রগতি’ নামের প্রথম জাহাজটি ২০২৫ সালের ২৮ অক্টোবর বাণিজ্যিক কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছে। দ্বিতীয় জাহাজ ‘বাংলার নবযাত্রা’ আগামী ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ ডেলিভারি নেওয়ার কথা রয়েছে।

এ ছাড়া সরকারি অর্থায়নে দুটি এমআর প্রোডাক্ট অয়েল ট্যাংকার এবং নিজস্ব অর্থায়নে একটি আল্ট্রাম্যাক্স বাল্ক ক্যারিয়ার সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি চীন থেকে জি-টু-জি ভিত্তিতে আরও চারটি বড় জাহাজ সংগ্রহের পরিকল্পনাও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

জেবি/আরএক্স
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD