নির্বাচনী দায়িত্বে অনীহা ও শৈথিল্য দেখলেই কঠোর ব্যবস্থা

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে কড়া অবস্থান নিয়েছে সরকার। নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর অনীহা, অসহযোগিতা কিংবা শৈথিল্য ধরা পড়লেই প্রচলিত আইন অনুযায়ী শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে স্পষ্ট জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এ লক্ষ্যে সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সব মন্ত্রণালয়ের সচিবদের কাছে নির্দেশনাসংবলিত পরিপত্র পাঠানো হয়েছে। একই নির্দেশনার আলোকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ তাদের আওতাধীন সব অধিদপ্তর, দপ্তর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নির্বাচন সংক্রান্ত দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও নিষ্ঠা বজায় রাখতে নির্দেশ দিয়েছে।
পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যে ৬৯ জন রিটার্নিং অফিসার এবং ৪৯৯ জন সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষকসহ বিভিন্ন সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
বিজ্ঞাপন
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো কর্মকর্তা নিয়োগপত্র গ্রহণ করার পর বা নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কাজে যুক্ত হওয়া মাত্রই তিনি ‘নির্বাচন কর্মকর্তা’ হিসেবে বিবেচিত হবেন এবং সরাসরি নির্বাচন কমিশনের কাছে দায়বদ্ধ থাকবেন। দায়িত্ব পালনে অনীহা, অসহযোগিতা, শৈথিল্য কিংবা ভুল তথ্য প্রদানকে অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করা হবে। এ ধরনের অপরাধে ‘নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন, ১৯৯১’-এর ৪ ও ৫ ধারার আওতায় দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা সরকারের রয়েছে।
দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থায় শিক্ষকদের বড় একটি অংশ প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন-১) মো. খালিদ হোসেন জানান, গত ৯ জানুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া নির্দেশনা ইতোমধ্যে সব অঞ্চল, জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিস এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, নায়েম, ব্যানবেইস, এনটিআরসিএ ও এনসিটিবিসহ শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে সতর্ক ও সজাগ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশন আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটকে প্রশ্নাতীত করতে চায়। এ কারণে নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত সবাইকে সততা, নিষ্ঠা ও সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে—এই জাতীয় দায়িত্বে কোনো ধরনের গাফিলতি বা শৈথিল্য কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।








