বিশৃঙ্খলার সুযোগ নেই, নিরাপদ থাকবে প্রতিটি ভোটকেন্দ্র: ইসি

ভোটকেন্দ্রে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, প্রভাব বিস্তার কিংবা অযথা ভিড় বরদাস্ত করা হবে না বলে কঠোর বার্তা দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি জানিয়েছেন, আচরণবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই কমিশনের প্রধান লক্ষ্য।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ভিজিলেন্স ও অবজারভেশন টিমের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচন এমন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে যাতে সাধারণ মানুষ নিশ্চিন্তে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারে। ভোটারদের মাঝে কোনো আতঙ্ক বা ভয়ভীতি কাজ করবে না—বরং উৎসবের আবহে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করতে হবে। যারা ভয় দেখানোর চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, নারী, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ভোটারদের জন্য বাড়তি সহযোগিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
নির্বাচনী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিটি এলাকায় প্রায় ১০ জন ম্যাজিস্ট্রেট ও জুডিশিয়াল বিচারক দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানান ইসি। তিন ভাগে বিভক্ত এসব টিমের মধ্যে দুটি ইতোমধ্যে মাঠে কাজ করছে, আরেকটি ভোটের আগে চার দিন সক্রিয় থাকবে।
কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনে তিনটি বিষয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও দৃঢ়তা। কোনো তথ্য গোপন করা যাবে না এবং একপেশে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই।
বিজ্ঞাপন
আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট নিয়ে প্রচারণা থাকলেও ভোটারদের তা সঠিকভাবে বোঝাতে হবে। পোস্টাল ভোট যেন কোনোভাবেই নষ্ট না হয়, সেজন্য নির্ধারিত নিয়ম মেনে ভোট গ্রহণ ও গণনা করতে হবে। স্ক্যানিং প্রক্রিয়ায় বাদ পড়লে সেই ভোট গণনায় আসবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।
ভোটকেন্দ্রে কলম ব্যবহার না করার নির্দেশ দিয়ে ইসি বলেন, কলম দিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে ভোট নষ্ট করার আশঙ্কা থাকে। তাই পেন্সিল ব্যবহার করা হবে। এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
বিজ্ঞাপন
ভোট কেনাবেচা প্রতিরোধে এবার প্রতিটি আসনে মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেন পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। নির্দিষ্ট সময়ে অস্বাভাবিক লেনদেন শনাক্ত হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। এছাড়া মাঠ পর্যায়ে নির্বাচন কমিশনের ছয়টি কমিটি কাজ করছে, যাদের তদন্ত ও বিচারিক ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে।
ইসি বলেন, একটি সুষ্ঠু নির্বাচন শুধু গণতন্ত্রের জন্য নয়—দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। গণতান্ত্রিক ঘাটতি থাকলে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। তাই এবারের নির্বাচন নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি গড়ে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি বিএনসিসি সদস্যরাও নির্বাচনী কাজে সহযোগিতা করবে। এ বিষয়ে খুব শিগগিরই প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।
বিজ্ঞাপন
সভায় সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো. নাজমুল ইসলাম সরকার। এছাড়া জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের তথ্য উপস্থাপনে জানা যায়, চাঁদপুরে নিবন্ধিত পোস্টাল ভোটারের সংখ্যা ৪৬ হাজার ৪৩৬ জন এবং প্রবাসী ভোটারের সংখ্যায় জেলাটি দেশের মধ্যে পঞ্চম স্থানে রয়েছে।








