Logo

সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে সংসদেই সমাধান চান বিরোধীদলীয় নেতা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ মার্চ, ২০২৬, ১৯:৫৪
সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে সংসদেই সমাধান চান বিরোধীদলীয় নেতা
ছবি: সংগৃহীত

সংবিধান সংস্কার পরিষদ ইস্যুতে সংসদের ভেতরেই সমাধান চান বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী বিষয়টির নিষ্পত্তি সংসদের মধ্যেই হওয়া উচিত। তবে কোনো কারণে তা সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে রাজপথে আন্দোলনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে—যদিও দলটি এমন পরিস্থিতি দেখতে চায় না।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (১৫ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান জানান, সংবিধান সংস্কার পরিষদ সম্পর্কিত বিষয়টি তিনি সংসদে উত্থাপন করেছেন। স্পিকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আনুষ্ঠানিক নোটিশ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে আদালতে কোনো আবেদন করা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আদালতে বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা শোনা গেলেও তিনি এ বিষয়ে নিশ্চিত নন। এটি কার্য উপদেষ্টা কমিটির আলোচনার বিষয় নয়; বরং সংসদে আলোচনা করেই সমাধান করা উচিত। তবে প্রয়োজন হলে পরবর্তী পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে যে প্রেসিডেনশিয়াল অর্ডার জারি করা হয়েছে, সেটি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। একই আদেশের ভিত্তিতে এক ক্ষেত্রে সংবিধানের বাইরে গিয়েও কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হচ্ছে, আবার অন্য ক্ষেত্রে তা মানা হচ্ছে না।

তিনি বলেন, যদি কোনো আদেশ মানা হয়, তবে তা সবার ক্ষেত্রেই সমানভাবে মানতে হবে; অন্যথায় কোনো ক্ষেত্রেই তা গ্রহণযোগ্য হবে না।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও জানান, অধিবেশনের শুরুতেই পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি বিষয়টি নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করেন। পরে স্পিকার তাদের বক্তব্য দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করেন। সে সময় গত বছরের ১৩ নভেম্বর জারি করা সংশ্লিষ্ট আদেশের বিভিন্ন দিক সংসদে তুলে ধরা হয়েছে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদ সদস্যরা ইতোমধ্যে শপথ গ্রহণ করেছেন। কিন্তু যারা এখনও শপথ নেননি, তাদের শপথ গ্রহণ কবে হবে—তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একই সঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন কবে আহ্বান করা হবে, সেটিও স্পষ্ট নয়।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া গণভোটের বিষয়টিও তিনি সামনে আনেন। তার দাবি, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ সংবিধান সংস্কারের পক্ষে গণভোটে মত দিয়েছে। সেই গণভোটের ফলাফল কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে এবং এর চূড়ান্ত অবস্থান কী—এ বিষয়েও স্পষ্ট সিদ্ধান্ত প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

বিরোধীদলীয় নেতার মতে, এসব প্রশ্নের উত্তর সংসদের ভেতরেই আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করা গেলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে এবং জনগণের প্রত্যাশাও পূরণ হবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD