সংস্কারের উদ্যোগ লক্ষ্যভ্রষ্ট, প্রত্যাশা পূরণ হয়নি: টিআইবি

গণঅভ্যুত্থানের পর দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকার সুশাসন, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন ও জবাবদিহিমূলক কাঠামো প্রতিষ্ঠায় প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির মতে, সংস্কারের নামে নেওয়া অধিকাংশ উদ্যোগ বাস্তবে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ধানমণ্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘কর্তৃত্ববাদ পতন-পরবর্তী প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক এক গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়। গবেষণায় বিচার, নির্বাচন, সংস্কার কার্যক্রম, দুর্নীতি ও অনিয়ম এবং বিভিন্ন অংশীজনের ভূমিকা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণার সময়কাল ছিল ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত।
গবেষণায় বলা হয়, দুর্নীতিমুক্ত ও জন-অঙ্গীকারভিত্তিক শাসন ব্যবস্থার প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে অর্থ, পেশিশক্তি ও ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক চর্চা জোরদার হয়েছে। দলগুলোর ভেতরে গণতান্ত্রিক চর্চার ঘাটতি, ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতি এবং দখলদারিত্বের প্রবণতাও উঠে এসেছে।
বিজ্ঞাপন
টিআইবির পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, এসব প্রবণতার প্রভাবে নারীর অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা বা তোষণমূলক অবস্থানের কারণে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির প্রভাব বেড়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
সংগঠনটি জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের শুরুর দিকে সংস্কার প্রক্রিয়ায় নাগরিক সমাজকে গুরুত্ব দেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে তাদের সুপারিশ উপেক্ষিত হয়েছে। সরকারের ভেতরে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিত্ব থাকা সত্ত্বেও প্রত্যাশিত ভূমিকা পালন না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নাগরিক সমাজ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।








