জাপানে ৭ হাজারের বেশি বাংলাদেশি পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে

জাতীয় নির্বাচনের মাত্র পাঁচ দিন আগে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) টোকিওতে এক বিশেষ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং জাপানের পক্ষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হোরি ইওয়াও চুক্তিতে সই করেন।
বিজ্ঞাপন
চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশি পণ্যগুলোর জন্য জাপানের বাজার পুরোপুরি উন্মুক্ত হলো। এখন থেকে তৈরি পোশাকসহ ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য জাপানে শতভাগ শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবেন। বিশেষ সুবিধার মধ্যে রয়েছে ‘সিঙ্গেল স্টেজ ট্রান্সফরমেশন’, যা কাঁচামালের কোনো জটিল শর্ত ছাড়াই বাংলাদেশি তৈরি পোশাক সরাসরি জাপানে রপ্তানি করা সম্ভব করবে। বিনিময়ে বাংলাদেশও জাপানের ১ হাজার ৩৯টি পণ্যের জন্য পর্যায়ক্রমে শুল্কমুক্ত বা অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা নিশ্চিত করবে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, “ইপিএ শুধু বাণিজ্য চুক্তি নয়, এটি দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের প্রতিফলন এবং বাংলাদেশের উজ্জ্বল অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের প্রতীক। এটি পারস্পরিক সমৃদ্ধির একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।” অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান এবং জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলীসহ উভয় দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বিজ্ঞাপন
চুক্তির মাধ্যমে পণ্য বাণিজ্যের পাশাপাশি সেবা খাতেও ব্যাপক সুযোগ তৈরি হয়েছে। আইটি, ইঞ্জিনিয়ারিং, শিক্ষা, নার্সিংসহ ১২০টি সেবা খাতে বাংলাদেশের দক্ষ পেশাজীবীরা কাজ করতে পারবেন। ফলে জাপানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ জাপানের বিনিয়োগকারীদের জন্য ৯৮টি উপখাত উন্মুক্ত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চুক্তির দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব বাংলাদেশের অবকাঠামো ও লজিস্টিকস খাতের মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জাপানি বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের ফলে উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) এবং দক্ষ জনশক্তি উন্নয়নের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে।
বিজ্ঞাপন
উল্লেখযোগ্য, ভুটানের সঙ্গে অগ্রাধিকার বাণিজ্যচুক্তি ছাড়া এটি বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক চুক্তি। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০২৩ সালে উদ্যোগ নেওয়া হলেও ২০২৫ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার একে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। ঢাকা ও টোকিওতে মোট সাত দফা নিবিড় দর-কষাকষির পর আজ চুক্তিটি চূড়ান্ত রূপ পেয়েছে।








