ভোটারদের প্রতি যে আহ্বান জানালেন প্রধান উপদেষ্টা

আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশের সব শ্রেণি-পেশার ভোটারদের সচেতনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিতব্য গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, এই গণভোট ও নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে। এটি কেবল একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নয়, বরং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা এবং জনগণের সার্বভৌম ইচ্ছার প্রতিফলনের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।
প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, দীর্ঘ সময় ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত জনগণ জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছে, এই নির্বাচন তার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, গণভোটে জনগণ ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রকাঠামো ও শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট মতামত দেবেন এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যোগ্য, জবাবদিহিমূলক ও জনআকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল প্রতিনিধিদের নির্বাচিত করবেন।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, বিপুলসংখ্যক তরুণ এবার প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। পাশাপাশি বহু প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক দীর্ঘদিন প্রকৃত অর্থে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি। তাই নির্বাচন যেন সবার কাছে উৎসবমুখর, ভীতিমুক্ত ও বিশ্বাসযোগ্য অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে, তা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব। এ লক্ষ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ভিত্তি—এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভোটাররা যেন কোনো ধরনের চাপ বা প্রভাব ছাড়া স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেন, সে জন্য প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন, সশস্ত্র বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
বিজ্ঞাপন
একই সঙ্গে রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সংযম, সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক আচরণ বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।
বাণীর শেষাংশে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সক্রিয় নাগরিক অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।








