ছায়া মন্ত্রিসভা কী, কেন ও কীভাবে কাজ করে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর বিএনপি সরকার গঠনের পথে এগোচ্ছে। আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নতুন সরকারের শপথের কথাও রয়েছে। তবে এর মধ্যেই আলোচনায় এসেছে ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ বাক্যটি। জামায়াতে ইসলামীর নেতা শিশির মনির ও এনসিপি নেতা আসিফ মাহমুদের বক্তব্যের পর ছায়া মন্ত্রিসভার কাজ ও কিভাবে গঠন তা নিয়ে নতুন করে সকলের মনে প্রশ্ন উঠেছে।
বিজ্ঞাপন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েছেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। এরপর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের ঘোষণা দিয়ে আলোচনার জন্ম দেন। পরে আসিফ মাহমুদও মন্ত্রিসভা গঠনের কথা জানান।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) এনসিপি নেতা আসিফ মাহমুদ তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আমরা ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং সার্বিক কার্যক্রমে ওয়াচডগ হিসেবে কাজ করবে ছায়া মন্ত্রিসভা।’
বিজ্ঞাপন
তাদের এই ঘোষণা রাজনৈতিক মহলসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।
ছায়া মন্ত্রিসভা কী?
বিশ্ব রাজনীতিতে ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ মূলত ওয়েস্টমিনস্টার ধারার সংসদীয় ব্যবস্থার পরিচিত একটি কাঠামো। রাজনৈতিক পারিপার্শ্বিকতা অনুযায়ী বিভিন্ন দেশে বিরোধী দলগুলো নিজেদের ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ ঘোষণা করে থাকে। এটি বিরোধী দলের জন্য সরকারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, সমালোচনা ও বিকল্প নীতি প্রস্তাব করার একটি যন্ত্র হিসেবে কাজ করে।
বিজ্ঞাপন
ছায়া মন্ত্রিসভা সাধারণত সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জন্য বিরোধীদল একজন ‘ছায়া মন্ত্রী’ মনোনয়ন করে। এই ছায়া মন্ত্রীদের কাজ হল সরকারের নীতি ও বাজেট বিশ্লেষণ, সমালোচনা করা এবং প্রয়োজনে বিকল্প নীতি বা পরিকল্পনা উপস্থাপন করা।
যুক্তরাজ্যে সরকার বিরোধী দলের ছায়া মন্ত্রিসভা নিয়মিত সরকারের নীতি পর্যবেক্ষণ করে, সংসদে প্রয়োজনীয় প্রশ্ন তোলার মাধ্যমে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করে। অস্ট্রেলিয়াতেও একইভাবে বিরোধী দলের ছায়া মন্ত্রিসভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ছায়া মন্ত্রিসভা শুধুমাত্র সরকারের সমালোচনা করার জন্য নয়, এটি বিরোধী দলের জন্য রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ এবং নির্বাচনের প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। এতে দলের নেতা-কর্মীরা প্রশাসনিক কাঠামো, বাজেট এবং নীতি প্রণয়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান অর্জন করেন।
বিজ্ঞাপন
ছায়া মন্ত্রিসভার মাধ্যমে বিরোধী দল জনগণের কাছে নিজেদের কার্যকর ও প্রস্তুত দলের ইমেজ দেখাতে পারে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট
বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে কখনো ছায়া মন্ত্রিসভা গঠিত হয়নি। বর্তমান সংসদীয় কাঠামোতে এটি কোনো সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার আওতায় নেই। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জবাবদিহি ও নীতি পর্যবেক্ষণ শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার একটি শক্তিশালী উপায়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ভবিষ্যতে এই কাঠামো আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে, বিশেষ করে যখন ক্ষমতায় থাকা দলগুলোর নীতি পর্যবেক্ষণ জটিল হয়ে ওঠে।
ছায়া মন্ত্রিসভার মূল কাজ
বিজ্ঞাপন
বিশ্বের উন্নত গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে ছায়া মন্ত্রিসভার দায়িত্বসমূহ প্রধানত হলো—
১.সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা
২.বিকল্প বাজেট প্রস্তাব করা
বিজ্ঞাপন
৩.প্রশাসনিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা
৪.ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য দলকে প্রস্তুত করা
বিশেষ করে শক্তিশালী বিরোধী দলের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায়, ছায়া মন্ত্রিসভা ভবিষ্যতে গুরুত্ব পেতে পারে। এটি সরকারের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা বাড়াতে এবং জনগণের কাছে রাজনৈতিক দায়িত্ববোধ প্রদর্শন করতে সহায়তা করে।
বিজ্ঞাপন







