স্বাধীনতার ৫৪ বছর : উন্নয়ন স্রোতের বাইরে ‘প্রথম রাজধানী’ চুয়াডাঙ্গা

যে জনপদ থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সূর্য প্রথম উদিত হয়েছিল, সেই চুয়াডাঙ্গা আজও উন্নয়নের মূল স্রোতের বাইরে রয়ে গেছে। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পার হলেও অবকাঠামো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হওয়ায় এ জেলাকে উন্নয়ন বৈষম্যের এক বাস্তব উদাহরণ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
বিজ্ঞাপন
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাজধানী হিসেবে চুয়াডাঙ্গার নাম ঘোষিত হয়—যা ইতিহাসে এক অনন্য গৌরবের অধ্যায়। অথচ স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময়ে এ জেলা থেকে কেউই পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব পাননি।
স্থানীয়দের মতে, এই রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের অভাবই বারবার জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় চুয়াডাঙ্গাকে পিছিয়ে পড়ার দিকে ঠেলে দিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ঐতিহ্য, শিল্প ও কৃষিতে অনন্য অবদান
চুয়াডাঙ্গা কেবল রাজনৈতিক ইতিহাসেই নয়, অর্থনীতি ও শিল্প ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। দেশের প্রথম রেলপথ ও প্রথম পোস্ট অফিস স্থাপিত হয়েছিল এই জেলাতেই। এখানে অবস্থিত দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম চিনি শিল্প কারখানা এবং দেশের একমাত্র বৈধ মদ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘কেরু অ্যান্ড কোম্পানি’। কৃষি উৎপাদনে পান, ভুট্টা ও শাকসবজির অন্যতম প্রধান যোগানদাতা হিসেবেও জেলার সুনাম রয়েছে। পাশাপাশি বিশ্বখ্যাত ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগলের অভয়াশ্রম হিসেবেও পরিচিত এই অঞ্চল।
অগ্রগতির ছোঁয়া নেই পাঁচ দশকেও
বিজ্ঞাপন
এতসব সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও আধুনিক উন্নয়নের চিত্র এখনো স্পষ্ট নয়। স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পার হলেও চুয়াডাঙ্গায় কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়নি। নেই বিশেষায়িত আধুনিক হাসপাতাল। জেলা শহরের সড়ক ও অবকাঠামোর বড় অংশ এখনো জরাজীর্ণ। শিল্পায়ন, গ্যাস সংযোগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির দাবি দীর্ঘদিনের হলেও তা বাস্তবায়নের অপেক্ষায়।
মন্ত্রীত্বের দাবি, মানুষের প্রত্যাশা
চুয়াডাঙ্গাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি—এই ঐতিহাসিক জেলার যোগ্য প্রতিনিধিকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হোক। স্থানীয় সচেতন মহলের ধারণা, একজন পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী না থাকায় জাতীয় বাজেটে বারবার অবহেলার শিকার হচ্ছে জেলা। সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে একজন রাজনৈতিক অভিভাবকের প্রয়োজনীয়তা তারা বারবার তুলে ধরছেন।
বিজ্ঞাপন
রেমিট্যান্স, কৃষি, পান ও ভুট্টা উৎপাদনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত এই জেলার মানুষ মনে করেন, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব না থাকায় সম্ভাবনার পুরোটা কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায় নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। চুয়াডাঙ্গার মানুষ প্রত্যাশা করছে—এই জেলার সৎ, যোগ্য ও অভিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতৃত্বকে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তঘেঁষা এই জনপদের কথা বলার সুযোগ তৈরি করা হবে।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়দের দৃঢ় বিশ্বাস, সরকার যদি দেশের “প্রথম রাজধানী”র ঐতিহাসিক গুরুত্ব যথাযথভাবে উপলব্ধি করে, তবে এখানে দ্রুত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আধুনিক হাসপাতাল ও বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে চুয়াডাঙ্গাকে উন্নয়নের মানচিত্রে যথাযোগ্য স্থানে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।








