Logo

শনিবারের মধ্যে ইরানে হামলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:৪০
শনিবারের মধ্যে ইরানে হামলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক হামলার সময়সূচি নিয়ে শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। কর্মকর্তারা তাকে জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী অভিযান চালাতে প্রস্তুত থাকবে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

বিজ্ঞাপন

মার্কিন গণমাধ্যম সিবিএস নিউজ–কে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, হোয়াইট হাউজ উত্তেজনা বাড়ার ঝুঁকি এবং সংযম দেখানোর রাজনৈতিক ও সামরিক প্রভাব—দুই দিকই বিবেচনায় রাখছে। ফলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আসতে পারে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, মার্চের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মোতায়েন মার্কিন বাহিনী পূর্ণ প্রস্তুতিতে থাকবে।

মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, ইরান পাল্টা হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্য থেকে কিছু সামরিক সদস্যকে সাময়িকভাবে ইউরোপ বা যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে। তবে এমন স্থানান্তর সামরিক প্রস্তুতির স্বাভাবিক অংশ, এটি হামলা আসন্ন—এমন ইঙ্গিত নয় বলেও তারা উল্লেখ করেন।

বিজ্ঞাপন

বুধবার পেন্টাগনের কাছে মন্তব্য চাওয়া হলে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। অন্যদিকে সূত্র জানায়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শিগগিরই ইসরায়েল সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করবেন।

হোয়াইট হাউজের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার পক্ষে একাধিক কারণ রয়েছে, তবে প্রেসিডেন্টের অগ্রাধিকার কূটনৈতিক সমাধান। সম্ভাব্য কোনো সামরিক পদক্ষেপ ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বিত হবে কি না—সে বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেননি।

তিনি আরও দাবি করেন, গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে সফল অভিযান চালায়। তার মতে, ইরানের উচিত ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো।

বিজ্ঞাপন

এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনসহ কয়েকটি যুদ্ধজাহাজ ইরানের কাছাকাছি এলাকায় মোতায়েন করেছে। আরেকটি রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড মধ্যপ্রাচ্যের পথে রয়েছে; ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এটি পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলে অবস্থান করছিল।

অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি একটি ছবি প্রকাশ করেন, যেখানে একটি মার্কিন রণতরীকে সাগরের তলদেশে ডুবে থাকতে দেখা যায়। তিনি লেখেন, যুদ্ধজাহাজ নিঃসন্দেহে বিপজ্জনক অস্ত্র, তবে তার চেয়েও বিপজ্জনক সেই শক্তি, যা সেটিকে সাগরের তলানিতে পাঠাতে পারে।

বিজ্ঞাপন

১৭ ফেব্রুয়ারি সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে মধ্যস্থতাপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কয়েক ঘণ্টাব্যাপী ওই বৈঠকে কিছু অগ্রগতির কথা জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে লেভিট বলেন, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনো দুই পক্ষের অবস্থান অনেক দূরে।

তার ভাষ্য, ইরান আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আরও বিস্তারিত প্রস্তাব নিয়ে আসতে পারে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন প্রেসিডেন্ট। পরবর্তী বৈঠকের তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি।

বিজ্ঞাপন

গত বছরের জুনে ১২ দিনের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, এতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ২০১৪ সালের পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে গেলে ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম জোরদার করে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা জানায়, ইরান ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বিশুদ্ধতায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছিল, যা অস্ত্র তৈরির মাত্রার কাছাকাছি। সংস্থাটির মতে, পারমাণবিক বোমা না থাকা সত্ত্বেও এত উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধকরণ চালানো একমাত্র দেশ ইরান।

সূত্র: সিবিএস নিউজ

জেবি/জেএইচআর
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD