প্রথম ৬ মাসে অগ্রাধিকারভিত্তিক কাজ চান প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী

নতুন সরকারের শুরুতেই প্রত্যাশার চাপ—এই বাস্তবতা সামনে রেখে দ্রুত কাজের গতি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। বিশেষ করে যেসব আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার বর্তমানে বন্ধ রয়েছে, সেগুলো পুনরায় চালুর বিষয়ে তাৎক্ষণিক অগ্রগতি জানতে চেয়েছেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) শপথ নেওয়ার পর প্রথম কর্মদিবসে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে পরিচিতিমূলক সভায় তিনি এসব নির্দেশনা দেন।
মন্ত্রী বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ছয় মাসে জনগণ সরকারের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে। এই সময়টাতে কাজের গতি, উদ্যম ও দৃশ্যমান অগ্রগতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই কোন কোন কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন সম্ভব, তার একটি সুস্পষ্ট অগ্রাধিকার তালিকা তৈরির নির্দেশ দেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
তিনি উল্লেখ করেন, সব কাজ একসঙ্গে করা সম্ভব নয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে যেসব উদ্যোগ নেওয়া যায়, সেগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিতে হবে। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী পরিকল্পনা সাজিয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে মন্ত্রণালয়ের সবাইকে দলগতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি প্রত্যেক দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক করার কথাও জানান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করে কাজ এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন।
প্রবাসীদের কল্যাণ ও অধিকার সংরক্ষণের বিষয়ে মন্ত্রী বিস্তারিত তথ্য চান। এ পর্যন্ত কতজন প্রবাসীকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে, তারা কোন দেশ থেকে ফিরেছেন, কোন এলাকার কতজন কী ধরনের সহায়তা পেয়েছেন—এসব তথ্য সমন্বিত তালিকা আকারে প্রস্তুত করতে বলেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তিনি জানতে চান, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার কেন বন্ধ রয়েছে, এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং পুনরায় চালু করতে কী ধরনের উদ্যোগ প্রয়োজন। যদি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা এখনো গ্রহণ না করা হয়ে থাকে, তবে দ্রুত করণীয় নির্ধারণের নির্দেশ দেন তিনি।
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, তার নিজ এলাকা প্রবাসী অধ্যুষিত এবং সেখানকার উল্লেখযোগ্য অংশ জীবিকার তাগিদে বিদেশে কাজ করেন। তাই প্রবাসীদের সমস্যা ও বাস্তবতা সম্পর্কে তিনি অবগত। দেশের উন্নয়নে প্রবাসীদের অবদান বিবেচনায় নিয়ে তাদের কল্যাণে আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
সভায় উপস্থিত প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, বিদেশগামী শ্রমিকদের অধিকাংশই পারিবারিক সম্পদ বিক্রি করে প্রবাসে পাড়ি জমান। তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ নিশ্চিত করতে হবে। যেকোনো মূল্যে অভিবাসন ব্যয় কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে অধিকাংশ প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পন্ন হয়। বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করতে বিমানবন্দরের সাপোর্ট বা হেল্প ডেস্কগুলোকে আরও কার্যকর করতে হবে। বিদেশগামীদের প্রতি সম্মানজনক আচরণ নিশ্চিত করার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, জনগণের সঙ্গে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সততা ও আন্তরিকতা অপরিহার্য। দেশকে এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
বিজ্ঞাপন
সভায় মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নেয়ামত উল্ল্যা ভূইয়াসহ দপ্তর ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর এই নির্দেশনাকে ঘিরে মন্ত্রণালয়ে কর্মচাঞ্চল্য লক্ষ্য করা গেছে।








