ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ সরকারের

রাজধানী ঢাকার দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা সমাধান এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাকে আধুনিক ও কার্যকর করতে ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্যে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি নানা পদক্ষেপের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগরের ভেতরে অবস্থিত পাঁচটি আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল দ্রুত শহরের বাইরে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বর্তমানে এসব টার্মিনাল কেবল সিটি সার্ভিসের জন্য ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে নগরজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অনিয়ন্ত্রিত বাস কাউন্টারগুলো অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে ১২০টি সিগন্যাল পয়েন্টকে দেশীয় প্রযুক্তির মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে অটোমেশনের আওতায় আনা হবে। এছাড়া রেলক্রসিংগুলোতে আধুনিক স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল লাইটিং ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
রাস্তার শৃঙ্খলা ফেরাতে ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করার পাশাপাশি রাস্তার মাঝখানে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটি সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শহরের সব সিটি বাসকে জিপিএসের আওতায় এনে কেন্দ্রীয়ভাবে চলাচল নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা রয়েছে, যা যানজট কমাতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিজ্ঞাপন
নগরবাসীর চলাচল সহজ করতে অধিকাংশ ফুটওভার ব্রিজে চলন্ত সিঁড়ি স্থাপন এবং হাসপাতালসংলগ্ন এলাকায় লিফট বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে রোগী, বয়স্ক ও শারীরিকভাবে দুর্বল মানুষের যাতায়াতে সুবিধা বাড়বে।
এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঢাকার চারপাশে নতুন বাইপাস সড়ক নির্মাণ এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ওভারপাস ও আন্ডারপাস তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এই বৃহৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সড়ক পরিবহন, সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহণ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিবসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সিটি করপোরেশন প্রশাসক এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টদের আশা, স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা গেলে আগামী এপ্রিলের মধ্যেই রাজধানীর যানজট পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান উন্নতি আসতে পারে।








