Logo

অধ্যাদেশ বাতিলের পেছনে রয়েছে আমলাতন্ত্র ও রাজনৈতিক প্রভাব: টিআইবি

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১৪:৫২
অধ্যাদেশ বাতিলের পেছনে রয়েছে আমলাতন্ত্র ও রাজনৈতিক প্রভাব: টিআইবি
ছবি: সংগৃহীত

দেশে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অধ্যাদেশ কার্যকর না হওয়া বা বাতিলের পেছনে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকেই প্রধান চাপ আসছে বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। একই সঙ্গে এ প্রক্রিয়ায় আমলাতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবও রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (৬ এপ্রিল) টিআইবির কার্যালয়ে রাষ্ট্র সংস্কার সংশ্লিষ্ট কিছু অধ্যাদেশ বাতিল ও সংশোধন নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

তিনি বলেন, অধ্যাদেশগুলো আইন হিসেবে কার্যকর না হওয়ার পেছনে মূলত দুটি বিষয় কাজ করছে—রাজনৈতিক প্রভাব এবং আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর ভূমিকা। বর্তমানে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা অভ্যন্তরীণ প্রতিরোধের ফল, যার বড় উৎস রাজনৈতিক মহল। পাশাপাশি অধ্যাদেশ বাতিলের পক্ষে যেসব যুক্তি সামনে আনা হচ্ছে, তার উল্লেখযোগ্য অংশই আমলাতন্ত্র থেকে এসেছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, এতে স্পষ্ট হয় যে দেশের নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় এখনো আমলাতন্ত্রের শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে এবং তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

সংবাদ সম্মেলনে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রসঙ্গেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। তিনি বলেন, বর্তমান সময় দুদকের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রতিষ্ঠানটি কার্যত স্থবির অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পূর্ণাঙ্গ কমিশন না থাকায় কোনো নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না, যা দেশের দুর্নীতি দমন কার্যক্রমের জন্য উদ্বেগজনক।

তিনি দ্রুত দুদকের নতুন অধ্যাদেশ সংশোধন এবং একটি পূর্ণাঙ্গ কমিশন গঠনের দাবি জানান।

বিজ্ঞাপন

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ ও জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ বাতিলের দাবি জানায় টিআইবি। সংস্থাটি মনে করে, প্রস্তাবিত পুলিশ কমিশন কাঠামোতে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কমিশনের বৈশিষ্ট্য প্রতিফলিত হয়নি।

টিআইবির মতে, অধ্যাদেশে পুলিশ কমিশনকে ‘স্বাধীন’ বা ‘নিরপেক্ষ’ হিসেবে উল্লেখ না করে কেবল একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। কমিশনের গঠন, কার্যপরিধি ও পরিচালন পদ্ধতিও এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যে গৃহীত সুপারিশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

সংস্থাটি আরও আশঙ্কা প্রকাশ করে জানায়, এই অধ্যাদেশ অনুযায়ী কমিশন গঠিত হলে তা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হতে পারে, যা কমিশনের মূল উদ্দেশ্য পূরণে ব্যর্থ হবে।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া কমিশনে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা ও সাবেক পুলিশ সদস্যদের অন্তর্ভুক্তি এবং সদস্য-সচিব হিসেবে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তাকে ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়টিকে অস্বাভাবিক হিসেবে উল্লেখ করেছে টিআইবি। এতে কমিশনের চেয়ারম্যান ও অন্যান্য সদস্যদের কার্যকর ভূমিকা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করে সংস্থাটি।

একই সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সরকারের প্রভাব এবং আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণের কারণে কমিশনের স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়।

বিজ্ঞাপন

জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ নিয়েও সমালোচনা করেছে টিআইবি। সংস্থাটি বলেছে, প্রস্তাবিত কর্তৃপক্ষকে একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রক ও সেবা প্রদানকারী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ায় স্বার্থের সংঘাত তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এছাড়া এই কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগ প্রক্রিয়াও সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন থাকায় এর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বলে মত দিয়েছে টিআইবি।

প্রস্তাবিত এসব অধ্যাদেশের বিভিন্ন দিক পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে টিআইবি বলেছে, কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হলে স্বচ্ছতা, স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা জরুরি।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD