শিক্ষামন্ত্রীর সভা সাংবাদিকদের বর্জনের নেপথ্যে যা জানা গেল

ময়মনসিংহে শিক্ষামন্ত্রীর একটি গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভাকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে বিতর্ক ও উত্তেজনা। সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা অনুষ্ঠান বর্জন করে বাইরে অবস্থান নেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে—ঠিক কী ঘটেছিল ওই অনুষ্ঠানে?
বিজ্ঞাপন
সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে ময়মনসিংহ টাউন হলের তারেক স্মৃতি অডিটরিয়ামে আয়োজিত হয় আসন্ন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষে একটি মতবিনিময় সভা। এতে অংশ নেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সভায় উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ শিক্ষাবোর্ডসহ মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের কেন্দ্রসচিবরা।
অনুষ্ঠান শুরুর সময় থেকেই ঢাকা ও স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা মন্ত্রীর ছবি ও ভিডিও ধারণ করছিলেন। একই সঙ্গে অডিটোরিয়ামে উপস্থিত অন্যান্যরাও ছবি তুলছিলেন।
বিজ্ঞাপন
প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, বক্তব্য দিতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী অডিটোরিয়ামে উপস্থিত শিক্ষকদের স্পষ্টভাবে দেখতে পাচ্ছিলেন না। এ অবস্থায় তিনি মঞ্চ থেকেই সাংবাদিকদের কিছুটা সরে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানান। পরে শিক্ষকদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করতে তিনি মঞ্চ থেকে নেমে আসেন।
এ সময় পরিস্থিতি কিছুটা জটিল হয়ে ওঠে। মন্ত্রী নিচে নামার পরও কয়েকজন ক্যামেরাপারসন ভিডিও ধারণ করতে থাকেন, ফলে বক্তব্য দিতে অসুবিধা হচ্ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। তখন শিক্ষামন্ত্রী সাংবাদিকদের উদ্দেশে সার্কিট হাউজে গিয়ে অপেক্ষা করার পরামর্শ দেন এবং পরে সেখানে বিস্তারিত ব্রিফিং দেওয়ার কথা জানান।
তিনি উল্লেখ করেন, সভাটি দীর্ঘ সময় ধরে চলবে, তাই একই ধরনের ফুটেজ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
বিজ্ঞাপন
মন্ত্রীর এ বক্তব্যের পর অডিটোরিয়ামে উপস্থিত কয়েকজন সংসদ সদস্য ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারাও সাংবাদিকদের সার্কিট হাউজে যাওয়ার জন্য বলেন। এ সময় একজন শিক্ষক ও এক সাংবাদিকের মধ্যে বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
এই ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় সাংবাদিকরা অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করে বাইরে অবস্থান নেন এবং মতবিনিময় সভা বয়কট করেন। তাদের অভিযোগ, অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
পরবর্তীতে সভা শেষে স্থানীয় সাংবাদিক নেতারা শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পুরো বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় মন্ত্রী পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন এবং পূর্বঘোষিত অনুযায়ী সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের ব্রিফিং দেওয়ার আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেন।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও সংশ্লিষ্ট মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এমন পরিস্থিতি এড়াতে আয়োজকদের আরও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন ছিল।








