Logo

সংসদে যেভাবে নির্বাচিত হন সংরক্ষিত নারী এমপিরা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১৭:২২
সংসদে যেভাবে নির্বাচিত হন সংরক্ষিত নারী এমপিরা
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রস্তুতি জোরদার করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ১২ মে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং এর আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করা হবে ৮ এপ্রিল।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (৬ এপ্রিল) আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে অনুষ্ঠিত কমিশনের ১১তম সভা শেষে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সংবিধান অনুযায়ী সাধারণ নির্বাচনের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যেই সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়, সে লক্ষ্যেই এগোচ্ছে কমিশন।

সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সরাসরি জনগণের ভোটে হয় না। এটি একটি পরোক্ষ পদ্ধতি, যেখানে সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ী ৩০০ জন সংসদ সদস্যই ভোটার হিসেবে অংশ নেন। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি ছয়টি সাধারণ আসনের বিপরীতে একটি করে সংরক্ষিত নারী আসন বরাদ্দ থাকে।

বিজ্ঞাপন

আইন অনুসারে, সংসদ সচিবালয় শপথ গ্রহণকারী এমপিদের তালিকা তিন কার্যদিবসের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে পাঠায়। এরপর রাজনৈতিক দল বা জোটগুলোকে তাদের অবস্থান জানাতে ২১ কার্যদিবস সময় দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে কমিশন ৩০ দিনের মধ্যে দলভিত্তিক ভোটার তালিকা প্রস্তুত করে এবং তা প্রকাশ্যে টাঙিয়ে দেয়। একইসঙ্গে সংসদ সচিবালয়েও এর অনুলিপি পাঠানো হয়। তালিকা একবার চূড়ান্ত হয়ে গেলে শুধুমাত্র কারিগরি ভুল ছাড়া আর কোনো পরিবর্তনের সুযোগ থাকে না।

সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হয় দলের অর্জিত আসনের অনুপাতে। অর্থাৎ, কোনো রাজনৈতিক দল যদি ৬টি সাধারণ আসনে জয়লাভ করে, তবে তারা একটি সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য প্রার্থী দিতে পারে।

বিজ্ঞাপন

একটি আসনের জন্য একই দল থেকে একাধিক নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দলের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ভোটে একজন বিজয়ী হন।

যদি কোনো দলের মনোনীত প্রার্থীর সংখ্যা তাদের প্রাপ্য আসনের সমান হয়, তাহলে নির্বাচন কমিশন সাধারণত তাদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করে। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই সরাসরি ভোটগ্রহণের প্রয়োজন পড়ে না।

সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের জন্য কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকা নির্ধারিত থাকে না। তারা সংশ্লিষ্ট দল বা জোটের প্রতিনিধি হিসেবেই সংসদে দায়িত্ব পালন করেন।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসন ৩০০টি সাধারণ আসনের ভিত্তিতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আনুপাতিক হারে বণ্টন করা হয়।

আসন বণ্টনের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট গাণিতিক সূত্র অনুসরণ করা হয়। মোট সংরক্ষিত আসন (৫০) সংখ্যাকে মোট সাধারণ আসন (৩০০) দিয়ে ভাগ করে প্রাপ্ত মান সংশ্লিষ্ট দলের আসনসংখ্যা দিয়ে গুণ করা হয়।

বিজ্ঞাপন

গুণফল ভগ্নাংশে এলে এবং তা যদি দশমিক ০.৫ বা তার বেশি হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট দল অতিরিক্ত একটি আসন পায়। জটিল পরিস্থিতিতে লটারির মাধ্যমেও আসন নির্ধারণের বিধান রয়েছে।

বর্তমান সমীকরণ অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে বিএনপি সর্বোচ্চ ৩৬টি সংরক্ষিত নারী আসন পেতে পারে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পেতে পারে ১৩টি আসন এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পেতে পারে একটি আসন।

অন্যদিকে, স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জোট গঠন করতে পারলে অবশিষ্ট দুটি আসন পাওয়ার সুযোগ থাকবে। তবে ছোট দলগুলো এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিলে তাদের জন্য আসন পাওয়ার সম্ভাবনা কম বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD