Logo

জামায়াতের ১১ দলীয় নির্বাচনী জোট ছাড়ার ঘোষণা খেলাফত মজলিসের

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৫ জুলাই, ২০২৬, ১৪:৩২
জামায়াতের ১১ দলীয় নির্বাচনী জোট ছাড়ার ঘোষণা খেলাফত মজলিসের
ছবি: সংগৃহীত

জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী জোট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে খেলাফত মজলিস। দলটির নেতারা জানিয়েছেন, জোটটি মূলত নির্বাচনী সমঝোতার ভিত্তিতে গঠিত হয়েছিল এবং নির্বাচন শেষ হওয়ায় সেই জোটের কার্যকারিতাও শেষ হয়েছে বলে তারা মনে করছেন।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত খেলাফত মজলিসের মজলিসে শূরার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

দলীয় নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ১১ দলীয় জোটের কয়েকটি কর্মসূচিতে তারা অংশ নিলেও এখন থেকে জোটের কোনো কার্যক্রমে আর সম্পৃক্ত থাকবে না খেলাফত মজলিস।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তারা আরও জানান, বর্তমান জোট থেকে বেরিয়ে এলেও ভবিষ্যতে দেশের স্বার্থ, জাতির কল্যাণ এবং ইসলামী মূল্যবোধের প্রশ্নে বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তোলার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

বিজ্ঞাপন

এ সময় দলটি জানায়, জাতীয় সংসদে খেলাফত মজলিসের একমাত্র সংসদ সদস্য মুফতি আবুল হাসান বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবেন।

মজলিসে শূরার তৃতীয় সাধারণ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ। সভা পরিচালনা করেন দলের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের। এছাড়া নায়েবে আমির, যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ কেন্দ্রীয় পর্যায়ের বিভিন্ন নেতা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সংবিধান সংস্কার ইস্যুতেও বক্তব্য দেন দলটির নেতারা। তাদের অভিযোগ, জুলাই সনদ এবং গণভোটের পূর্ণাঙ্গ রায়কে গুরুত্ব না দিয়ে সরকার সংবিধান সংশোধনের জন্য বিশেষ কমিটি গঠন করেছে।

বিজ্ঞাপন

খেলাফত মজলিসের নেতাদের দাবি, জনগণের প্রত্যাশা হলো এমন একটি সংবিধান সংস্কার, যা ভবিষ্যতে স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা ফিরে আসার সব ধরনের সুযোগ স্থায়ীভাবে বন্ধ করবে। এ লক্ষ্যে তারা পৃথক সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

দলটির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, জনগণের রায়কে উপেক্ষা করে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হলে তা সরকারের জন্য রাজনৈতিক সংকট তৈরি করতে পারে। তাই সংসদের মাধ্যমে দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

একই সঙ্গে জুলাই এবং শাপলা চত্বরের ঘটনাসহ যেসব ঘটনাকে দলটি গণহত্যা হিসেবে উল্লেখ করেছে, সেসব ঘটনার বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার জন্যও সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

বিজ্ঞাপন

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, খেলাফত মজলিসের এই সিদ্ধান্ত জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করতে পারে। তবে দলটি স্পষ্ট করেছে, বর্তমান জোট থেকে সরে এলেও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বৃহত্তর ঐক্যের সম্ভাবনা তারা পুরোপুরি নাকচ করছে না।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD