Logo

১০০ টাকার রিচার্জে মিলছে মাত্র ৬২ টাকা, পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১৭:১১
১০০ টাকার রিচার্জে মিলছে মাত্র ৬২ টাকা, পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার
ছবি: সংগৃহীত

দেশের টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে আরোপিত উচ্চ করহার কমিয়ে গ্রাহকদের ওপর চাপ হ্রাসে উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্যমান কর কাঠামোর কারণে গ্রাহকরা তাদের ব্যয়ের পুরো সুবিধা পাচ্ছেন না—১০০ টাকা রিচার্জে কার্যত সেবা মিলছে প্রায় ৬২ টাকার, বাকি অংশ কর হিসেবে চলে যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘ব্রডব্যান্ড এক্সপো ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ তথ্য তুলে ধরেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।

তিনি জানান, টেলিকম ও আইসিটি খাতে বর্তমানে বিভিন্ন স্তরে করহার প্রায় ৩৮ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে, যা বিশ্বপরিসরে তুলনামূলকভাবে বেশি। একই সময়ে দেশের ট্যাক্স-টু-জিডিপি অনুপাত কম থাকায় উভয় দিক বিবেচনায় নিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ কর কাঠামো তৈরির কাজ চলছে।

বিজ্ঞাপন

উপদেষ্টা আরও বলেন, করের এই চাপ সরাসরি গ্রাহকের ওপর প্রভাব ফেলে। তাই এমন একটি সমাধান খোঁজা হচ্ছে, যাতে গ্রাহক সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারের রাজস্বও সুরক্ষিত থাকে।

টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোর প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, দেশে বর্তমানে একাধিক ব্যাকবোন নেটওয়ার্ক বিদ্যমান, যা সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা পৃথকভাবে পরিচালনা করছে। এ পরিস্থিতিতে একটি সমন্বিত ‘ন্যাশনাল ফাইবার ব্যাকবোন’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা বিবেচনায় রয়েছে, যাতে সব অপারেটর সমান সুযোগ পায় এবং সেবার মান ও ব্যয় উভয় ক্ষেত্রেই উন্নতি ঘটে।

ডিজিটাল অর্থনীতির প্রসারে নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে আইসিটি খাতের উন্নয়ন তিনটি মূল বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে—কানেক্টিভিটি, নাগরিকের ডিজিটাল পরিচয় এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সেবা। এর মধ্যে ‘এক নাগরিক, এক ডিজিটাল আইডি’ বাস্তবায়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে একজন নাগরিক জীবনের সব পর্যায়ে একটি একক ডিজিটাল পরিচয়ের আওতায় থাকেন।

বিজ্ঞাপন

ডিজিটাল লেনদেন ও সেবার প্রসঙ্গে তিনি জানান, ভবিষ্যতে একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে নাগরিকরা পরিচয়, আর্থিক লেনদেন এবং বিভিন্ন সরকারি সেবা একই জায়গা থেকে গ্রহণ করতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, দেশের তরুণ উদ্যোক্তারা ইতোমধ্যে উদ্ভাবনী উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছেন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সাফল্য অর্জন করছেন। তাদের এগিয়ে নিতে সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেটের পাশাপাশি সহায়ক নীতিমালার প্রয়োজন রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে আইসিটি ও টেলিকম খাত থেকে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রায় ২ থেকে ৪ শতাংশ অবদান আসছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এটি ১০ থেকে ১৫ শতাংশে উন্নীত করার সম্ভাবনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে সরকার, বেসরকারি খাত এবং উদ্যোক্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ধাপে ধাপে সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে দেশের আইসিটি খাতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) সভাপতি আমিনুল হাকিমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব আবদুন নাসের খান, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী এবং আইএসপিএবির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিম ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD