Logo

সরকারি চাকরিতে ৪ লাখ ৬৮ হাজার পদ শূন্য, নিয়োগে আসছে বড় সংস্কার

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১৭:২৬
সরকারি চাকরিতে ৪ লাখ ৬৮ হাজার পদ শূন্য, নিয়োগে আসছে বড় সংস্কার
ছবি: সংগৃহীত

দেশের সরকারি চাকরিতে বিপুল সংখ্যক শূন্যপদ পূরণে বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। মুখস্থনির্ভর পরীক্ষার ধারা থেকে সরে এসে দক্ষতা ও যোগ্যতাভিত্তিক মূল্যায়নের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সাজানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন গ্রেডে মোট ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি পদ খালি রয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে স্পিকারের অনুমতিক্রমে এবং ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে এসব তথ্য তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে প্রথম শ্রেণির (১ম-৯ম গ্রেড) পদে শূন্যতা রয়েছে ৬৮ হাজার ৮৮৪টি। দ্বিতীয় শ্রেণির (১০ম-১২তম গ্রেড) পদে ১ লাখ ২৯ হাজার ১৬৬টি, ১৩তম থেকে ১৬তম গ্রেডে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৯টি এবং ১৭তম থেকে ২০তম গ্রেডে ১ লাখ ১৫ হাজার ২৩৫টি পদ খালি রয়েছে। এছাড়া অন্যান্য ক্যাটাগরিতে আরও ৮ হাজার ১৩৬টি পদ শূন্য রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রতিমন্ত্রী জানান, এসব পদ পূরণে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ৬ মাস, ১ বছর ও ৫ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনার আওতায় ধাপে ধাপে নিয়োগ সম্পন্ন করা হবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রায় ৫ লাখ জনবল নিয়োগের বিষয়টি নজরদারির জন্য ইতোমধ্যে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

নিয়োগ ব্যবস্থায় পরিবর্তন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে মুখস্থনির্ভর সিলেবাস বাদ দিয়ে ‘দক্ষতাভিত্তিক’ মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করা হবে। এতে প্রার্থীর বাস্তব জ্ঞান, বিশ্লেষণ ক্ষমতা ও মানসিক প্রস্তুতি যাচাইয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।

বিরোধী দলের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, মেধা, সততা ও দক্ষতাকে প্রাধান্য দিয়ে একটি মেধাভিত্তিক প্রশাসন গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার। বর্তমানে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে ৯৩ শতাংশ নিয়োগ মেধার ভিত্তিতে হচ্ছে। বাকি ৭ শতাংশ কোটার মধ্যে ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা, ১ শতাংশ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী এবং ১ শতাংশ প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের জন্য সংরক্ষিত।

বিজ্ঞাপন

বিসিএস পরীক্ষায় সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি আরও জানান, মুখস্থনির্ভরতা কমাতে সিলেবাস পুনর্গঠনের কাজ চলছে। এ জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা বিভিন্ন দেশের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা পদ্ধতি পর্যালোচনা করছে। পাশাপাশি মৌখিক পরীক্ষায় ‘যোগ্যতা-ভিত্তিক সাক্ষাৎকার’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া একটি বিসিএস পরীক্ষা এক বছরের মধ্যে সম্পন্ন করার প্রক্রিয়াও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে, প্রশাসনে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে অতীত পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, গত ১৬ বছরে বিসিএস প্রশাসনে ১২ জনকে বাধ্যতামূলক অবসর, ৩৯ জনকে বরখাস্ত এবং ৫৬৪ জনকে ওএসডি করা হয়েছে। একইসঙ্গে নিয়োগে অনিয়ম ও দলীয়করণের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গুণগত পরিবর্তন আসবে এবং দক্ষ জনবল দিয়ে প্রশাসন আরও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD