সংসদে সাউন্ড সিস্টেমে ত্রুটির কারণ জানাল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান

জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশনে সাউন্ড সিস্টেমে যে বিভ্রাট দেখা দিয়েছিল, তার জন্য ‘ঢিলা হয়ে যাওয়া তার’কে দায়ী করেছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জাহিদুর রহিম জোয়ারদার। তিনি দাবি করেন, গণঅভ্যুত্থনের সময় অবকাঠামোগত ক্ষতির কারণে এ সমস্যা তৈরি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান। এদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রায় দুই ঘণ্টা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দুদকের সহকারী পরিচালক প্রবীর কুমার দাস এ জিজ্ঞাসাবাদ পরিচালনা করেন।
জাহিদুর রহিমের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতরে স্থাপিত সাউন্ড সিস্টেমের তার ঢিলা হয়ে যায়। ফলে অধিবেশন চলাকালে সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ালে শব্দ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটে এবং সাউন্ড ঠিকমতো কাজ করেনি।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও জানান, সাউন্ড সিস্টেম সংস্কারের প্রাথমিক কাজ সম্পন্ন করেছিল আমানত এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। তবে তাদের কারিগরি সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে শেষ পর্যায়ের কাজ তার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হয়েছে।
অন্যদিকে, দুদকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সকলকে ধাপে ধাপে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম বলেন, তদন্তের স্বার্থে গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং অনুসন্ধান প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, জাহিদুর রহিম জোয়ারদার রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে জাতীয় সংসদ ভবনের প্ল্যানারি হলে স্থাপিত ‘এসআইএস’ সিস্টেমের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ দীর্ঘদিন ধরে এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছেন। এছাড়া উন্নয়ন কাজের আড়ালে অতিরিক্ত মূল্য দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
শুধু তাই নয়, স্বাস্থ্য খাতেও চিকিৎসা সরঞ্জাম ও মেডিকেল যন্ত্রপাতি ক্রয়ে একই ধরনের অনিয়মের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে বলে জানিয়েছে দুদক।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর জাতীয় সংসদ ভবনের প্ল্যানারি হলের সাউন্ড সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে এটি মেরামতের উদ্যোগ নেয় গণপূর্ত অধিদপ্তর। তবে এই মেরামত কাজ নিয়েও নানা অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে।
বিজ্ঞাপন
অভিযোগ রয়েছে, শুধু সিস্টেম পরীক্ষার জন্য প্রকৌশলীদের যাতায়াত, আবাসন ও সম্মানীর নামে প্রায় ১১ লাখ ২৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল। পাশাপাশি পুরো সিস্টেম মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণে অস্বাভাবিক উচ্চ ব্যয়ের প্রাক্কলন তৈরির বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে দুদক।








