Logo

ফ্যামিলি কার্ডে ৩৭৮১৪ পরিবারে সহায়তা দেওয়া হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১৩:৫৫
ফ্যামিলি কার্ডে ৩৭৮১৪ পরিবারে সহায়তা দেওয়া হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

নারীর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় ৩৭ হাজার ৮১৪টি পরিবারের নারী প্রধানকে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. রবিউল আওয়ালের লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ তথ্য তুলে ধরেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার একটি নিরাপদ, বৈষম্যহীন এবং জলবায়ু সহিষ্ণু বাংলাদেশ গঠনে কাজ করছে, যেখানে নারী ও শিশুরা উন্নয়নের সমান অংশীদার হিসেবে ভূমিকা রাখবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে নারী ও শিশু কল্যাণে বিভিন্ন কর্মসূচি চালু রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, নারীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সরকারের চলমান কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি), মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি, নারীদের আত্মকর্মসংস্থানে ক্ষুদ্রঋণ সুবিধা এবং নারী উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে জয়িতা ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে বিভিন্ন আইন ও নীতিমালা বাস্তবায়নের পাশাপাশি সরকার জাতীয় টোল-ফ্রি হেল্পলাইন, ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি), ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেল, জাতীয় ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরি এবং জাতীয় ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টারের মাধ্যমে সেবা দিচ্ছে। এছাড়া নির্যাতিত নারী ও শিশুদের নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে।

তিনি আরও জানান, মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচিকে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে আর্থিক সহায়তার পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি উপকারভোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রসবপূর্ব ও প্রসব-পরবর্তী স্বাস্থ্যসেবা, টিকাদান এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবসেবা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীকে আত্মনির্ভরশীল করতে শুধু নগদ সহায়তা নয়, জীবিকা উন্নয়নভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান সহায়তা যুক্ত করে শহর ও গ্রামাঞ্চলের জন্য আলাদা গ্রাজুয়েশনভিত্তিক মডেল চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাশাপাশি নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা বাড়ানো এবং তাদের জন্য বাজার ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ১৩টি জেলা ও ৩টি সিটি করপোরেশনে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে হাজারো নিম্ন আয়ের পরিবার সরাসরি উপকৃত হচ্ছে।

শিশুদের উন্নয়ন ও কল্যাণের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বিকাশ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রশিক্ষণ, শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতা, শিশুতোষ চলচ্চিত্র নির্মাণ, প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা এবং অটিজম সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, পথশিশু পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় বর্তমানে দুটি আবাসিক কেন্দ্রে ১৫১ জন শিশুকে আবাসন, খাদ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি রয়েছে ৯টি আউটরিচ স্কুল।

কর্মজীবী মায়েদের সুবিধার জন্য দেশে বর্তমানে ৬৪টি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। এসব কেন্দ্রে শিশুদের জন্য পুষ্টিকর খাবার, প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং খেলাধুলার ব্যবস্থা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কর্মজীবী নারীদের জন্য কর্মস্থলে শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র স্থাপন এবং গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান, অফিস ও আদালতে ‘ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার’ চালুর বিষয়টি সরকারের অগ্রাধিকারে রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় উপকূলীয় নারীদের জন্য সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘জেন্ডার রেসপন্সিভ ক্লাইমেট অ্যাডাপটেশন’ প্রকল্পের আওতায় খুলনার দাকোপ, কয়রা, পাইকগাছা এবং সাতক্ষীরার আশাশুনি ও শ্যামনগর এলাকায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার কাজ চলছে।

এই প্রকল্পের আওতায় এখন পর্যন্ত ৪৩ হাজার নারীকে জীবিকা সহায়তা, প্রশিক্ষণ এবং কৃষি উপকরণ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ১৩ হাজার ৩০৮টি পরিবারভিত্তিক বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা স্থাপন করে তা উপকারভোগীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আরও ২ হাজার পরিবারে তিন হাজার লিটার ধারণক্ষমতার বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া ৬৫৮টি কমিউনিটি-ভিত্তিক রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং সিস্টেম নির্মাণের কাজও এগিয়ে চলছে।

সংসদ সদস্য আমির এজাজ খানের আরেক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী উপকূলীয় এলাকায় নদীভাঙন প্রতিরোধে সরকারের চলমান পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, খুলনার দাকোপ ও বটিয়াঘাটা উপজেলার নদীভাঙন পরিস্থিতি সম্পর্কে সরকার অবগত এবং সেখানকার মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় ইতোমধ্যে একাধিক প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে নদীতীর সংরক্ষণ, বাঁধ সংস্কার এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি মেরামত কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমের আগেই ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলোর সংস্কারের পরিকল্পনাও রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষা এবং উপকূলীয় এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD